চট্টগ্রাম রবিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১৯

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ১১:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার রুহিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের কানিকশালগাঁও গ্রামে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সজলের (২৫) বাড়িতে চলছে বিয়ের দাবিতে অনশন। জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট থেকে ওই ছাত্রলীগ নেতার বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। তিনিই করছেন এ অনশন।

ওই তরুণী বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সজল আমাকে ধর্ষণ করে। আমি তাকে বিয়ে করতে বললে সে তাতে রাজি না হওয়ায় তার বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছি। হয় আমি তাকে বিয়ে করবো নাহয় এখানেই আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবো।

এর আগে সজলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছিলেন ওই তরুণী। সে মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সজল জামিনে মুক্ত হওয়ার দিন থেকেই এ অনশন শুরু করেন ওই তরুণী। এ বিষয়ে সজলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে, সজলকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের’ অভিযোগে  পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার পারভেজ পুলক।

সজলের বাবা হামিদুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণ মামলায় আমার ছেলে ৬১ দিন কারাগারে ছিল। উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে গত ৩১ আগস্ট সজল বাড়ি আসার কিছুক্ষণ পর তার প্রেমিকা আমাদের বাড়িতে চলে আসে। তার পরিবারের লোকজনের সহায়তায় সে বাড়ির একটি কক্ষে ঢুকে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করে| এতে তাকে বাধা দিলে তারা আমার স্ত্রী, মেয়ে ও শাশুড়িকে মারধর করে। এ ঘটনায় আদালতে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে মেয়েটি আমাদের বাড়িতেই রয়েছে।

ওই তরুণীও সজলের পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেছে বলে পাল্টা অভিযোগ করেন।

১ নম্বর রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু বলেন, মেয়েপক্ষ সমাধানে রাজি থাকলেও ছেলে পক্ষ রাজি নয়। অনেকবার ছেলেপক্ষকে সমাধানের কথা বলার পরও তাদের দিক থেকে আশানুরূপ সাড়া পাওয়া যায়নি।

অনশনরত তরুণীর করা ধর্ষণ মামলার অগ্রগতি জানতে চাইলে রুহিয়া থানার ওসি প্রদীপ কুমার রায় বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট আমরা এখনও পাইনি। সেটা পেলে অগ্রগতি বলা যাবে।

পূর্বকোণ/আফছার

The Post Viewed By: 218 People

সম্পর্কিত পোস্ট