চট্টগ্রাম শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

এসির বিদ্যুৎ বিল কমাতে যে ৭ উপায় জানা দরকার

এসির বিদ্যুৎ বিল কমাতে যে ৭ উপায় জানা দরকার

অনলাইন ডেস্ক

৩০ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯:০৫ অপরাহ্ণ

গরমে সবার ঘরেই এখন শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার দিন দিন বেড়েছে। কিন্তু সারামাসে এসি চালিয়ে মাস শেষে গুনতে হয় চড়া বিদ্যুৎ বিল। তবে ব্যবহারে কিছু পরিবর্তন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এসির বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসির তাপমাত্রা ঠিক রাখা, ঘরে ঠান্ডা বাতাস ধরে রাখা এবং যন্ত্রটি পরিষ্কার রাখার মতো কয়েকটি অভ্যাস বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাহায্য করতে পারে।

জেনে নেওয়া যাক এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর সাতটি উপায়।

এসির তাপমাত্রা রাখুন ২৪-২৬ ডিগ্রিতে

ঘর দ্রুত ঠান্ডা করতে অনেকেই এসির তাপমাত্রা অনেক কমিয়ে দেন।

এতে যন্ত্রটি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। তাই আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখতে এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টা করুন।

প্রয়োজন অনুযায়ী সিলিং ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচল করবে এবং তুলনামূলক বেশি তাপমাত্রাতেও স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।

এসির সঙ্গে চালান সিলিং ফ্যান

এসি চালানোর সময় সিলিং ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের ঠান্ডা বাতাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এসির তাপমাত্রা খুব কমিয়ে রাখার প্রয়োজন হয় না। ফ্যানের বিদ্যুৎ খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় সঠিকভাবে ব্যবহার করলে দুই যন্ত্র মিলিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

ঘরে সরাসরি রোদ ঢোকা বন্ধ করুন

জানালা দিয়ে সরাসরি সূর্যের আলো প্রবেশ করলে ঘরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ঘর ঠান্ডা রাখতে এসিকে বেশি কাজ করতে হয়। দিনের বেলায় ভারী পর্দা, ব্ল্যাকআউট ব্লাইন্ড বা উপযুক্ত প্রতিফলকযুক্ত জানালার ফিল্ম ব্যবহার করলে ঘরে তাপ প্রবেশ কমানো যায়। বিশেষ করে দুপুরের রোদ পড়ার আগেই পর্দা টেনে রাখলে উপকার পাওয়া যেতে পারে।

দরজা-জানালার ফাঁক বন্ধ রাখুন

ঘরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে এসিকে বারবার ঘর ঠান্ডা করতে হয়। একইভাবে বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকলেও বাড়ে বিদ্যুতের ব্যবহার। তাই এসি চালানোর সময় দরজা-জানালা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন। ফাঁক থাকলে উপযুক্ত সিল বা ওয়েদারস্ট্রিপ ব্যবহার করে তা বন্ধ করা যেতে পারে।

নিয়মিত পরিষ্কার করুন এসির ফিল্টার

এসির ফিল্টারে ধুলাবালু জমলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। এতে শীতলীকরণের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং যন্ত্রটির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। সাধারণভাবে প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ পর ফিল্টার পরীক্ষা করে পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে ধুলাবালুর পরিমাণ ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে আরও ঘন ঘন পরিষ্কারের প্রয়োজন হতে পারে। পরিষ্কারের আগে অবশ্যই যন্ত্রের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।

নিয়মিত সার্ভিসিং করান

শুধু এসি নষ্ট হলেই সার্ভিসিং করানো উচিত নয়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা যায় এবং সম্ভাব্য ত্রুটি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সার্ভিসিংয়ের সময় ফিল্টার, কয়েল, ড্রেন লাইন ও বাতাস চলাচলের পথ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। রেফ্রিজারেন্টের মাত্রা বা গ্যাসের সমস্যা থাকলে দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো উচিত।

স্লিপ মোড ও টাইমার ব্যবহার করুন

রাতে ঘুমানোর সময় এসির স্লিপ মোড ব্যবহার করলে অনেক মডেলে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা সমন্বয় করা হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় শীতলীকরণ কমতে পারে। অন্যদিকে, টাইমার সেট করে রাখলে নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও এসি চলতে থাকার কারণে বিদ্যুতের অপচয় কমানো সম্ভব।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অভ্যাসই গুরুত্বপূর্ণ

এসির বিদ্যুৎ বিল কমাতে শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না; ঘরের তাপ প্রবেশ কমানো, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। এসব অভ্যাস একসঙ্গে অনুসরণ করলে বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট