প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর ঘিরে এখন নতুন আইফোন সিরিজ। এরই মধ্যে নানা গুঞ্জনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ ‘সারপ্রাইজ অ্যান্ড শাইন’ ইভেন্ট আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি শুরু হবে সকাল ১০টায় প্যাসিফিক সময়। বাংলাদেশ সময় তা হবে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা। অনুষ্ঠানটি অ্যাপলের ওয়েবসাইট, অ্যাপল টিভি ও ইউটিউব লাইভে দেখা যাবে।
এবারের আয়োজনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে নতুন আইফোন নিয়ে। বিভিন্ন প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অ্যাপল এ অনুষ্ঠানে আইফোন-১৮ প্রো ও আইফোন-১৮ প্রো ম্যাক্সের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো একটি ফোল্ডেবল আইফোন উন্মোচন করতে পারে। তবে এসব বিষয়ে এখনো অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি।
আসতে পারে প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা গুঞ্জন রয়েছে। ফোনটি বুকের মতো ভাঁজ করা যায়—এমন নকশার হতে পারে। অর্থাৎ ভাঁজ করা অবস্থায় এটি সাধারণ স্মার্টফোনের মতো ব্যবহার করা যাবে। আবার খুললে পাওয়া যাবে বড় ডিসপ্লে।
ফোল্ডেবল আইফোনে তুলনামূলক পাতলা নকশা এবং কম দৃশ্যমান ক্রিজ রাখার দিকে অ্যাপল গুরুত্ব দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ফোনটির নাম, চূড়ান্ত নকশা, ক্যামেরা ও অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
আইফোন-১৮ প্রো সিরিজেও থাকতে পারে পরিবর্তন
ফোল্ডেবল আইফোনের পাশাপাশি আইফোন-১৮ প্রো ও আইফোন-১৮ প্রো ম্যাক্স নিয়েও প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনা চলছে। গুঞ্জন রয়েছে, নতুন প্রো মডেলগুলোতে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের চিপ ব্যবহার করা হতে পারে। এতে কর্মক্ষমতা ও শক্তি ব্যবস্থাপনায় উন্নতি আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ক্যামেরা ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ক্যামেরা মডিউলের নকশা ও লেন্সের আকারে পরিবর্তন আসতে পারে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে এসব বৈশিষ্ট্যও এখনো অ্যাপলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডস নিয়েও আলোচনা
আইফোনের পাশাপাশি নতুন অ্যাপল ওয়াচ ও এয়ারপডস উন্মোচনের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২ এবং এয়ারপডসের নতুন সংস্করণের কথা বলা হলেও, ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে ঠিক কোন কোন পণ্য উন্মোচন করা হবে, তা অ্যাপল এখনো বিস্তারিত জানায়নি। ফলে এসব পণ্য নিয়ে প্রকাশিত তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য তথ্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দাম কি বাড়তে পারে?
নতুন প্রজন্মের প্রো চিপসেট, উন্নত মেকানিক্যাল অ্যাপারচার ক্যামেরা এবং বৈশ্বিক উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে আইফোন-১৮ সিরিজের দাম আগের সিরিজের (আইফোন-১৭) তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
সাধারণ রক্ত পরীক্ষাতেই গুরুতর হার্ট ফেইলিউর শনাক্তে এআইয়ের সাফল্য
ধারণা করা হচ্ছে, আইফোন-১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স মডেলের দাম আগের সিরিজের তুলনায় প্রায় ১০০ ডলার বাড়তে পারে।
চূড়ান্ত তথ্য মিলবে ইভেন্টেই
অ্যাপলের সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রতি বছরই প্রযুক্তিপ্রেমীদের আগ্রহ থাকে। এবার সেই আগ্রহ আরও বেড়েছে সম্ভাব্য ফোল্ডেবল আইফোনের কারণে।
তবে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি গুঞ্জন, তা নিশ্চিত হতে অপেক্ষা করতে হবে অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

















