প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের অর্থায়নে করোনা রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য নগরীর খুলশীস্থ বন্ধ থাকা এক সময়ের নামকরা অভিজাত ‘হলি ক্রিসেন্ট’ হাসপাতালকে নতুনভাবে তৈরি করা হচ্ছে। সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন এই হাসপাতাল গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানান, করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে যাবতীয় কার্যক্রম চালাতে চট্টগ্রামের এক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী ৫০ লাখ টাকা অনুদান এবং নগরীর ১২টি ক্লিনিক একটি করে আইসিইউ বেডসহ সেট প্রদান এবং অতিরিক্ত আরো তিন লাখ করে মোট ৩৬ লাখ টাকা নগদ প্রদান করছে। গতকাল থেকে এটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ লক্ষে গতকাল শনিবার দুপুরে মেয়রসহ সংশ্লিষ্টরা হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। আগামী ২৫ এপ্রিল এই হাসপাতালটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা যাবে আশা করে এ সময় সিটি মেয়র বলেন, ২০টি আইসিইউ বেড এবং ৮০টি জেনারেল বেডসহ মোট ১০০ বেডের উন্নত হাসপাতাল হবে এটি। এ সময় বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী, সিটি কপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী, প্রাইভেট ক্লিনিক ওনার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. লেয়াকত আলী খান, ডা. মো. ইউসুফ, ডা. এ টি এম রেজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন জানান, চট্টগ্রামে সরকারিভাবে জেনারেল হাসপাতালকে করোনা রোগীদের আইসোলেশন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে বেড সংখ্যা সীমিত। তাই বেসরকারিভাবে কোনো হাসপাতাল থাকলে জেনারেল হাসপাতালের উপর চাপ কমবে। হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ছিল। সব বিষয় বিবেচনা করে প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যাসোসিয়েশন হলি ক্রিসেন্টকে করোনা রোগীদের জন্য পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের অর্থায়ন ও পরিচালনায় হাসপাতালটি পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন সেটি তদারকি করবেন। মেয়র বলেন, চট্টগ্রামের মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি খুশির খবর।
তিনি জানান, হাসপাতালটি যেহেতু দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত ছিল। তাই সেটি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করার কাজ করবে সিটি কর্পোরেশন। এই হাসপাতালকে একটি কার্যকর সেবাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, ওয়াসা, টিএন্ডটিসহ সকল সরকারি ও আধাসরকারি সেবা সংস্থা কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পৃক্ততা আনায়নে একটি সমন্বয় বৈঠক রবিবার (১২ এপ্রিল) সিটি করপোরেশন সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময় মেয়র সিটি করপোরেশন পরিচালিত হাসপাতালেও করোনা ইউনিট চালু করার সিদ্ধান্ত জানান।
উল্লেখ্য, আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতাল ছাড়া চট্টগ্রামে সরকারিভাবে ফৌজদারহাটে বিআইটিআইডি এবং বেসরকারিখাতে সীতাকু-ের ছলিমপুরে আরো একটি হাসপাতাল গড়ার কাজ শুরু হয়েছে। নাভানা কোম্পানির জায়গায় হাসপাতালটি গড়ার জন্য কাজ করছেন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া।






















