চট্টগ্রামে নতুন করে আরও দুইজনের শরীরে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ পাওয়া গেছে। যদিও গত বৃহস্পতিবার তাদের মধ্যে একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এ দুইজন ছাড়াও লক্ষ্মীপুর জেলার এক বাসিন্দাও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে তাদের নমুনা পরীক্ষায় রোগ শনাক্ত হয়। এ নিয়ে চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত নয়জন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে বিআইটিআইডি হাসপাতালে পরীক্ষা করাদের লক্ষ্মীপুরের ওই বাসিন্দাসহ সর্বমোট দশজন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তালিকা করা হয়েছে।
জানা যায়, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নগরীর পাহাড়তলী সিডিএ মার্কেট এলাকার এক বাসিন্দা রয়েছেন। যার বয়স ৫০ বছর। তিনি নগরীর কদমতলী এলাকার ব্যবসায়ী। এছাড়া সাতকানিয়া উপজেলার আলীনগরের ইছামতির এক বাসিন্দা রয়েছেন। যিনি গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার বয়স ৬৯ বছর।
অন্যদিকে লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দানপাড়া এলাকার কোদালবাড়ির বাসিন্দা ৩২ বছর বয়সী এক যুবকও রয়েছেন। যিনি বর্তমানে তার নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ তার নমুনা সংগ্রহ করে বিআইটিআইডি হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য পাঠায় বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগ।
গতকাল শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাসান শাহরিয়ার কবীর পূর্বকোণকে বলেন, শনিবার বিআইটিআইডি হাসপাতালে ৭৯ ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনের ফলাফল পজিটিভ আসে। এরমধ্যে একজন গত বৃহস্পতিবার মারা যান। বাকিরা বাসায় আছেন, তাদের আইসোলেশনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
এর আগে, গত শুক্রবার নগরীতে আরও দুইজন ব্যক্তি করোনাভাইরাসে শনাক্ত হয়। তাদের দু’জনের একজন নগরীর ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার বাসিন্দা। অন্যজন আকবরশাহ ইস্পাহানি এলাকার বাসিন্দা। দুইজনেই ব্যবসায়ী ছিলেন। দুইজনেই বর্তমানে বিআইটিআইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এর আগেও গত বুধবার আরও তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হন। এদের মধ্যে একজন সীতাকু- উপজেলার বাসিন্দা। বাকি দুইজন নগরীর হালিশহরের শাপলা আবাসিক এলাকা ও সাগরিকা এলাকায় থাকেন। তাদের আগে গত শুক্রবার ও রবিবার নগরীর দামপাড়া এলাকার দুইজন বাসিন্দার এ ভাইরাস শনাক্ত হয়। তাঁরা সম্পর্কে পিতা-পুত্র। এই দুইজনসহ আক্রান্ত সকলেই বর্তমানে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
চট্টগ্রামে প্রথম মৃত্যু : চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে এই প্রথম মৃত্যু হয়েছে। যদিও মৃত্যুটি করোনা শনাক্ত হওয়ার আগেই হয়, তবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রামে এটিই প্রথম মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
জানা যায়, সাতকানিয়ার বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত এই ব্যক্তি গত বৃহস্পতিবার প্রচন্ড জ¦র-সর্দি ও শ^াসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চিকিৎসা প্রদান করার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর করোনা সন্দেহে তার সমুনা পরীক্ষা করা হয়। গতকাল শনিবার ফৌজদারহাটের বাংলাদেশ ইনস্টিটিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজে (বিআইটিআইডি) পরীক্ষায় তার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে।
চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও যেতে পারেন কোয়ারেন্টিনে :
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যু হওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে থাকায় হাসপাতালটির তিন চিকিৎসক, নার্সসহ একাধিক স্বাস্থ্যকর্মীকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে যারা মৃত্যু হওয়া ওই ব্যক্তির চিকিৎসা প্রদানসহ তাকে বহনের কাজও করেছেন। ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে কাজও করছেন। গত রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. আফতাবুল ইসলাম জানান, ‘ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। ওই সময়ে যারা তাকে সেবা দিয়েছেন, যারাই তার সংস্পর্শে এসেছেন তাদের তালিকা করা হচ্ছে। তাদেও কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হবে।’
পাহাড়তলীতে পাঁচ বাড়ি লকডাউন :
আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশে নগরীর পাহাড়তলীর সিডিএ মার্কেট এলাকায় পাঁচ বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাতেই নির্দেশনা পাওয়ার পর পাহাড়তলী থানা পুলিশ আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করেন। এই পাঁচটি বাড়িতে তিশটিরও বেশি পরিবারের বসবাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইনুর রহমান পূর্বকোণকে বলেন, ‘উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে আক্রান্ত হওয়া ব্যক্তির বাড়িসহ আশপাশের পাঁচটি বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে। বাড়িগুলো ঠিক পাহাড়তলী থানার বিপরীতেই। তবে আক্রান্ত ব্যক্তি অন্য কোথাও গিয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তিনি কদমতলী এলাকার পুরাতন লোহার ব্যবসা করতেন বলে জানা গেছে। বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তিনি যাদের সাথে সংস্পর্শে ছিলেন, তাদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতেও কাজ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।’






















