
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী, রাউজানের কৃতিসন্তান ড. নির্মল চন্দ্র দাশ পরলোকগমন করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় কানাডার এডমন্টন আলবার্টা এলাকায় বাধ্যকজনিত কারণে নিজ বাসগৃহে পরলোকগমন করেন তিনি।
ড. নির্মল চন্দ্র দাশ উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের হিঙ্গলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ বহু আত্মীয়-স্বজন ও সহকর্মী রেখে গেছে।
ড. নির্মল চন্দ্র দাশ ডাবুয়া ইউনিয়নের হিঙ্গলা গ্রামে ১৯৩৪ সালের ১ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম প্রসন্ন কুমার দাশ এবং মাতার নাম জ্ঞানদা লাশ। তার সহধর্মিনী একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের বিদূষী মহিলা। তার সন্তানগণ বর্তমানে স্ব স্ব অবস্থানে সু-প্রতিষ্ঠিত। পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. নির্মল চন্দ্র দাশ ১৯৫১ সালে রাউজান আর.আর. এ. সি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন। তারপর ১৯৫৩ সালে কানুনগোপাড়া স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আই.এস.সি পাশ করেন। চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ থেকে ১৯৫৫ সালে কৃতিত্বের সাথে প্রথম বিভাগে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হয়ে বি.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি উচ্চ শিক্ষা অর্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৭ সালে তিনি জৈব রাসায়নে এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৬৭ সালে কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে পি.এইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। এম.এস.সি ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫৮ সালে অধ্যাপক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি অধ্যাপনা করেন। অতঃপর তিনি ১৯৬৭ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্কে অধ্যাপনা করেন। তারপর ১৯৬৮ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ আলবার্টা, কানাডায় অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৬৯ সাল থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছর একজন সু-প্রতিষ্ঠিত পরিবেশ বিজ্ঞানী হিসেবে তিনি তাঁর কর্মজীবনে ব্যাপৃত ছিলেন। ১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২ পর্যন্ত তিনি রিসার্চ ফেলো হিসেবে ওই একই বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বরত ছিলেন। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি কানাডার নাগরিক হিসেবে অবসর জীবন যাপন করে আসছিলেন।
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. নির্মল চন্দ্র দাশ এলাকার নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য রাউজান আর, আর. এ. সি. পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যে গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাহায্যার্থে বৃত্তি চালু করেছিলেন। জাগতিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে তিনি বহুধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন ।
পূর্বকোণ/পিআর