অন্যান্য বছরের মতো এবারও রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মেধাবী সন্তানের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন শুরু হয়েছে। এসএসসি ও সমমান, এইচএসসি/সমমান এবং ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার এ শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। বৃত্তির জন্য আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। গত ২৫ অক্টোবর থেকে এ আবেদন শুরু হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তান যারা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ/সমমান অথবা ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে (১ম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত ও ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়/মেডিকেল কলেজে (১ম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে ২০২৫ সালে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ (১ম সেমিস্টার/বর্ষে) অধ্যয়নরত তাদের নিকট হতে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড।
মূলত যারা এসএসসি ও সমমান এবং এইচএসসি/সমমান অথবা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে ২০২৫ সালে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যেসব শিক্ষার্থী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অধ্যয়নরত তারাই এ আবেদনের যোগ্য হবে। তবে শিক্ষার্থীকে এসএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ গ্রেড অথবা ব্যবসায় শিক্ষায় ও মানবিক বিভাগে ৪.৭৫ গ্রেডে উত্তীর্ণ হতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রবাসী মৃত হলে তার সন্তানের পাসের গ্রেডে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা মানবিক বিভাগে জিপিএ-৪ গ্রেডে পাস করা শিক্ষার্থীরা আবেদনে যোগ্য হবে। অপরদিকে ২০২৫ সালের এইচএসসি/সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ৪.৮০ গ্রেডে এবং মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪.৫০ গ্রেডে এবং ২০২৫ সালের ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-এ প্রবাসী কর্মীর সন্তানের ক্ষেত্রে ৩.২৫ গ্রেডে এবং প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানের ক্ষেত্রে ৩.০০ গ্রেডে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানের বৃত্তি প্রদানের জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। গত ৮ অক্টোবর ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (আইআরপি) এর উপসচিব মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে।
আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদনের জন্য https://portal.wewb.gov.bd/ লিংকে ভিজিট করতে হবে শিক্ষার্থীদের। এ সংক্রান্ত যেকোন তথ্যের জন্য প্রবাসী কল সেন্টার (দেশ থেকে : ১৬১৩৫ টোল ফ্রি এবং বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০) ও জেলা প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, আবেদনকারীকে প্রবাসী কর্মীর বিএমইটি’র বহির্গমন ছাড়পত্র অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশিপ গ্রহণ করেছেন তাদের সন্তান হতে হবে। আবেদনে একজন প্রবাসী কর্মীর সর্বোচ্চ দুইজন সন্তান শিক্ষাবৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। এছাড়া অনলাইনে আবেদনে কাগজপত্রাদির মধ্যে আপলোড করতে হবে- পিতা/মাতা প্রবাসী কর্মী হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণক হিসাবে বিএমইটি’র বহির্গমন ছাড়পত্র/ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মেম্বারশিপ সম্বলিত পাসপোর্টের কপি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানের মোবাইল নম্বরসহ অধ্যয়নরত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে প্রদত্ত প্রত্যয়ন পত্র, প্রবাসে মৃত কর্মীর সন্তানদের ক্ষেত্রে বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন কর্তৃক ইস্যুকৃত এনওসি (দূতাবাস সনদ) এর কপি, শিক্ষার্থীর যে কোনো তফসিলি ব্যাংকের হিসাব নম্বর ও ব্যাংক রাউটিং নম্বরসহ স্টেটমেন্ট (এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রহণযোগ্য নয়), শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন/এনআইডি এর কপি।
সূত্র জানায়, শিক্ষাবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান : একাদশ হতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত দুই বছর, তবে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৪ বছর, এইচএসসি/সমমান : ডিগ্রি (পাস) কোর্স এর জন্য তিন বছর, স্নাতক জন্য চার বছর, তবে এমবিবিএস, বিডিএস (ব্যাচেলর অব ডেন্টাল সার্জারি), ডিভিএম (ডক্টর অফ ভেটেরিনারি মেডিসিন), বি. আর্ক (ব্যাচেলর অফ আর্কিটেকচার) এ পাঁচ বছর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রেও পাঁচ বছর। এছাড়া ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং : বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড হতে ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং এর ক্ষেত্রে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পর্যায়ে ৪ বছর বৃত্তি পাবে শিক্ষার্থীরা।
চট্টগ্রাম জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড কর্তৃক প্রবাসী মেধাবী সন্তানদের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রম শুরু করে সরকার। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অধীনে এ কার্যক্রমে প্রবাসী কর্মীর মেধাবী সন্তানদের মধ্যে যারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি কিংবা সমমান পরীক্ষায় বিজ্ঞানে জিপিএ-৫ এবং ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিকে জিপিএ-৪.৭৫ প্রাপ্ত হয়ে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে তারাই এ বৃত্তির আওতায় আসে। তবে প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর সন্তানগণ জিপিএ-৪ প্রাপ্ত হলে আবেদন করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ সেন্টার চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক মো. আতিকুল আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘সরকার মূলত রেমিট্যান্স যোদ্ধার মেধাবী সন্তানদের এ শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছে। এবার ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমান, ২০২৫ সালে এইচএসসি/সমমান ও ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কারও জানার থাকলে নগরীর লালদীঘি পাড়স্থ চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ ভবনের ৭ম তলায় আমাদের অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।’
পূর্বকোণ/নুসরাত


















