বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরীর সঙ্গে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলেন বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। মোটরসাইকেল মেরামত থেকে শুরু করে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া—সেদিনের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছেন দ্বীপ। তবে রাতের খাবারের পর দুজন আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারেননি তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল জানান, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যার পর জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হন তার ছেলে। যাওয়ার আগে মাকে বলেছিলেন, একটু কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু এরপর থেকে তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে শেষবারের মতো বার্তা পাঠিয়ে লিখেছিলেন, ‘আম্মু, আমি আসছি।’
গণমাধ্যমকে মুঠোফোনে দ্বীপ জানান, তাহসিফের একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে পড়ে ছিল। সেটি চালু হচ্ছিল না। মোটরসাইকেল সম্পর্কে নিজের ধারণা থাকায় তাহসিফ তার পরামর্শ চান। এরপর তিনি তাহসিফের গ্যারেজে যান এবং ফোন করলে তাহসিফ নিচে নেমে আসেন। প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টা করার পর তারা মোটরসাইকেলটি চালু করতে সক্ষম হন।পরে দুজন উত্তরার একটি মেরামতকেন্দ্রে যান।
সেখানে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাজ করানো হয় এবং তেল পরিবর্তন করা হয়। কাজ শেষে তাহসিফ তাকে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর তারা রুয়াব কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খান।
দ্বীপ জানান, খাওয়া শেষে তাহসিফ কোনো একটি কাজে চলে যান, আর তিনি নিজের বাসার উদ্দেশে রওনা হন। রুয়াব এলাকা থেকে বের হয়ে হাউজ বিল্ডিংয়ে পৌঁছানোর পর তাদের পথ আলাদা হয়ে যায়। দ্বীপ ডান দিকে চলে যান, আর তাহসিফ যান বাম দিকে।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসায় পৌঁছে তাহসিফকে ফোন করে নিজের পৌঁছানোর কথা জানানোর চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তখন থেকেই তাহসিফের মুঠোফোন বন্ধ পান। পরদিন সকালে আবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও একই অবস্থা দেখতে পান।
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতের এসব ঘটনা তুলে ধরলেও, আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানাননি দ্বীপ।
পূর্বকোণ/নুসরাত


















