শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা ও কর্মপরিবেশের উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রম আইন বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে জার্মানি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দেন জার্মানির ফেডারেল ইকোনমিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট মিনিস্ট্রির ভাইস মিনিস্টার ড. বার্বেল কফলার।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের সহযোগিতা জোরদার, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি এবং শোভন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ড. বার্বেল কফলার বাংলাদেশের শ্রম আইন সংশোধনের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি বড় অগ্রগতি।
শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে আইনটির বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে জার্মানি।
তিনি আরও বলেন, শোভন কাজ ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক মডেল টেকসই হতে পারে না।
আগে জার্মানিতে কম দামে পোশাক কেনার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেত। তবে এখন ভোক্তারা পোশাক তৈরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের সুস্বাস্থ্য ও কর্মপরিবেশের বিষয়েও যথেষ্ট সচেতন।
বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার শ্রমিকদের শোভন কাজ, কল্যাণ ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক সংলাপ এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংশোধনী পাস করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১৫৫, ১৮৭ ও ১৯০ নম্বর কনভেনশন অনুসরণ করেছে। সামাজিক সংলাপ, শ্রম বিরোধ নিষ্পত্তি এবং শ্রম প্রশাসন শক্তিশালী করতেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শ্রম আইনের সংশোধিত বিধান কার্যকর করতে বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা সংশোধনের কাজ চলছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর ফলে শ্রমিকদের কল্যাণের পাশাপাশি দায়িত্বশীল উদ্যোক্তা তৈরি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও টেকসই বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ গড়ে উঠবে।
বৈঠকে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য চালু করা এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম (ইআইএস) নিয়েও আলোচনা হয়।
মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের জুন থেকে তৈরি পোশাক খাতে পরীক্ষামূলকভাবে এ কর্মসূচি চালু রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত পঙ্গুত্ব বা মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় মাসিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
বর্তমানে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং চামড়া ও জুতা খাতেও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। স্কিমটি জাতীয় পর্যায়ে চালু করতে উপযুক্ত অর্থায়নব্যবস্থা নির্ধারণের কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে জার্মান সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেন।
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ


















