চট্টগ্রাম শনিবার, ০৮ আগস্ট, ২০২৬

২০২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ‘গুডবাই’ জানানো হবে: শাহজাহান চৌধুরী

মানববন্ধন কর্মসূচিতে এমপি শাহজাহান চৌধুরী

২০২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ‘গুডবাই’ জানানো হবে

অনলাইন ডেস্ক

২ মে, ২০২৬ | ৭:৪৫ অপরাহ্ণ

কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে রোহিঙ্গাদের সসম্মানে বিদায় বা ‘গুডবাই’ জানানো হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার এই বিষয়ে অত্যন্ত তৎপর এবং প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং একটি কমিটি গঠন করেছেন, যেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরলসভাবে কাজ করছেন।

শনিবার (২ মে) দুপুরে উখিয়ার পালংখালী স্টেশনে আয়োজিত এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পকেন্দ্রিক অপরাধ দমনের লক্ষ্যে ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি’ ৭ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করে।

শাহজাহান চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে স্থানীয়দের অধিকার ও চাকরির দাবির  ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়রা চাকরি করবে এটা আমাদের অধিকার। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমি স্থানীয়দের আরও চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি”। তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই দাবি আদায়ের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রবিউল হোছাইন, যিনি স্থানীয়দের পক্ষে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে: ক্যাম্পের বাইরে রোহিঙ্গাদের অবাধ চলাচল বন্ধ করা, মাদক চোরাচালান রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চাকরিতে স্থানীয়দের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা নিশ্চিত করা।

 প্রেক্ষাপট অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার আজাদের সঞ্চালনায় এই কর্মসূচিতে আরও বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরোয়ার জাহান চৌধুরী, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান এবং জেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এম.এ মোক্তার আহমদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে দমন-পীড়নের মুখে ৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে নতুন-পুরাতন মিলিয়ে প্রায় ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে অবস্থান করছে, যা স্থানীয় জনজীবন ও নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে।

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট