সম্ভাব্য রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ আরও সীমিত করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী যদি তাদের নিজ দেশে নিপীড়ন বা নির্যাতনের শিকার হওয়ার শঙ্কার কথা জানান, তবে তাদের আর যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশ্বের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটে পাঠানো এক কূটনৈতিক বার্তার মাধ্যমে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মূলত অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই নিয়মটি মূলত ‘নন-ইমিগ্র্যান্ট’ বা অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের (যেমন: পর্যটক, শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী কর্মী) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
কূটনৈতিক বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভিসা আবেদনকারীরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে কোনো জালিয়াতির আশ্রয় নিচ্ছেন কি না, তা কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে, কেউ যাতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করার উদ্দেশ্যে না যায়, তা আগেই যাচাই করতে বলা হয়েছে।
এখন থেকে কনস্যুলার কর্মকর্তারা অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের দুটি নির্দিষ্ট প্রশ্ন করবেন: ১. “আপনি কি আপনার নিজ দেশ বা সবশেষ বসবাসের স্থানে কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন?” ২. “নিজ দেশে ফিরে গেলে আপনি কি কোনো ক্ষতি বা নির্যাতনের আশঙ্কা করছেন?”
নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সচল রাখতে হলে আবেদনকারীকে এই দুটি প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই মুখে ‘না’ বলতে হবে। অর্থাৎ, কেউ যদি নিপীড়নের কথা স্বীকার করেন, তবে তার ভিসার আবেদন নাকচ হয়ে যাবে।
অভিবাসন নীতি বিশ্লেষক ক্যামিল ম্যাকলার এই নির্দেশনার তীব্র সমালোচনা করে জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত মানুষকে অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে ফেলবে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য যে, গত জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ৭৫টি দেশের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রক্রিয়াকরণ স্থগিত করেছিল এবং শিক্ষার্থী ভিসার ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই কঠোর করা হয়েছে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করার জন্য একজন ব্যক্তিকে শারীরিকভাবে দেশটিতে উপস্থিত থাকতে হয়, যা এই নতুন নিয়মের ফলে আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
পূর্বকোণ/কায়ছার






















