কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রথম কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করল পিবিআই। গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমান, সেনাবাহিনীর সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তাকে কুমিল্লার সদর আদালত-১-এ হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মমিনুল হক তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম জানান, তনুর মায়ের বারবার অনুরোধ ও সন্দেহের ভিত্তিতেই হাফিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃতের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যা শীঘ্রই তনুর কাপড় থেকে পাওয়া নমুনার সাথে ম্যাচিং করা হবে।
মেয়ের হত্যাকারী গ্রেপ্তার হওয়ার খবরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, “এতগুলো বছর পর একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। আমি চাইব তার যেন উপযুক্ত সাজা ও ফাঁসি নিশ্চিত হয়”।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেন আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে জানতে চেয়েছে এই হত্যার বিচার হবে কি না, এখন তিনি অন্তত বলতে পারবেন যে আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে।
২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করে ফেরার পথে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি শুরুতে থানা পুলিশ, ডিবি ও সিআইডি তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালের অক্টোবরে মামলাটি পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আদালত সম্প্রতি তনুর কাপড়ে পাওয়া ডিএনএ প্রোফাইলের সাথে অবসরপ্রাপ্ত তিনজন সেনা কর্মকর্তার ডিএনএ ম্যাচিং করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশের পর এবং তদন্তের ধারাবাহিকতায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলাটি নতুন মোড় নিলো। পুরো দেশ এখন ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হয়।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ





















