চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

হুতিদের হামলার শঙ্কায় বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ

হুতিদের হামলার শঙ্কায় বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ

অনলাইন ডেস্ক

১৩ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫:৪৭ অপরাহ্ণ

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলা জোরালো হওয়ায় সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিরাপত্তাঝুঁকি বিবেচনায় তাকে কড়া সুরক্ষাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন একাধিক প্রাসাদে রাখা হচ্ছে।

এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে তাকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও খবর প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে যুবরাজকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি।

তার চলাফেরা সম্পর্কে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যুবরাজের নিরাপত্তায় বিশেষভাবে বাছাই করা একটি দল নিয়োজিত রয়েছে। সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় এই নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

রিয়াদ বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার দাবি
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরব গত এক দশকের অন্যতম ভয়াবহ হামলার মুখে পড়ে। এতে দাবি করা হয়, রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ছোড়া অন্তত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

ওই হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। আহতদের অনেকের অবস্থা গুরুতর বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় অঞ্চলে তাদের মিত্রদের ওপর চালানো হামলাগুলোর মধ্যে এটি ছিল সবচেয়ে প্রাণঘাতী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার পর থেকে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। গত পাঁচ দিনে বিমানবন্দরটি চারবার হামলার শিকার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলার জবাব হবে ‘সমান কঠোর’।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার বিবেচনা

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিতে পারে কি না, তা বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সৌদি আরবের মিত্র দেশগুলোও রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত চলছে। ২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সৌদি আরব। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট