ইরানকে চীন ও রাশিয়া সহায়তা করছে বলে বিশ্বাস করেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, ইরানকে সহায়তা করলে দেশ দুটি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি আরও বলেন,‘তাদের হারানোর অনেক কিছু আছে। আর তারা এমন কিছু করলে আমরা তা জানতে পারব, খুব দ্রুতই জানতে পারব।’
এর আগে গত জুলাইয়েও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি বলেছিলেন, মে মাসে চীনে বৈঠকের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, চীন কোনো অবস্থাতেই ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে না। ট্রাম্পের দাবি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও তাকে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করার কথা বলেছেন।
বার্তায় ট্রাম্প উল্লেখ করেন, তাঁর রাজনৈতিক বিরোধীরা দাবি করছেন চীন ও রাশিয়া ইরানকে নেপথ্যে মদদ দিচ্ছে। এই অভিযোগের জবাবে ট্রাম্প লেখেন, “যদি তারা কোনো সাহায্য করে থাকেও, তা নিতান্তই সামান্য। তবে আমি তা একদমই বিশ্বাস করি না। কারণ তারা জানে, এই মুহূর্তে এমন পদক্ষেপ নিলে তাদের অনেক কিছু হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। আর তারা যদি সত্যিই সাহায্য করত, তবে তা এতক্ষণে আমরা জেনেই যেতাম।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী চলমান উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির পটভূমিতে ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এলো। এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন যে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান প্রশ্নে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চীনা প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে তেহরানকে কোনো প্রকার সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
যদিও ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিকভাবে মস্কো এবং বেইজিং তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ওয়াশিংটনের সামরিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে এটিকে ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং। অন্যদিকে, চীন ইরানের তেল বিক্রি ও মার্কিন ঘাঁটি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহে সাহায্য করছে বলে কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে দাবি উঠলেও ট্রাম্প শুরু থেকেই এসব খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে আসছেন।
পূর্বকোণ/ঐশী


















