ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের সময় অন্তত ১২ সাংবাদিককে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার (১১ অক্টোবর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের দ্বিতীয় দিনে এ ঘটনা ঘটে।
আটক সাংবাদিকদের মধ্যে হিন্দুস্তান টাইমসের সহযোগী প্রকাশনা হিন্দুস্তানের একজন প্রতিবেদক রয়েছেন। এ ছাড়া দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের হিন্দি সংস্করণের তিনজন প্রতিবেদক, দ্য হিন্দুর একজন সাংবাদিক এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরাপারসনও আটক হন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরিচয়পত্র দেখানোর পরও তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে দিল্লি পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
হিন্দুস্তানের প্রতিবেদক আশিস সিং জানান, রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ এলাকায় বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করছিলেন তিনি। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) ডাকা ওই কর্মসূচিতে পুলিশের আটক কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করছিলেন তিনি। এ সময় পুলিশ তাকে ধাক্কা দেয় এবং আঘাত করে। তার গলায় সংবাদমাধ্যমের পরিচয়পত্র থাকলেও পুলিশ কথা শোনেনি।
তিনি জানান, বারবার নিজেকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দেন এবং পরিচয়পত্র (আইডি) দেখান। তারপরও তাকে এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে পুলিশের বাসে তুলে নেওয়া হয়। আশিসের ভাষ্য, তিনি বিক্ষোভকারীদের থেকে দূরে ছিলেন। পুলিশের কাজে বাধা দিচ্ছিলেন না। তারপরও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়।
প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিনিট বাসে থাকার পর মন্দির মার্গ এলাকায় পৌঁছালে তিনি আরেক সাংবাদিকের সঙ্গে বাস থেকে নেমে যান। ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি ভয় পেয়েছিলেন বলেও জানান।
ছবি তুলতে গিয়ে আটক আলোকচিত্রী
একটি জাতীয় সংবাদ সংস্থার একজন আলোকচিত্রীও আটকের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, লোকজনকে আটক করার ছবি তুলছিলেন তিনি। তার অভিযোগ, পুলিশ পথচারীদের সরিয়ে দিচ্ছিল এবং সাংবাদিকদেরও আটক করছিল। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা তাকে বাসের ভেতরে নিতে বলেন এবং ধাক্কা দিয়ে তুলে দেন।
আলোকচিত্রী জানান, নিজের ধারণ করা ছবি ও ভিডিও মুছে ফেলার আশঙ্কায় তিনি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড লুকিয়ে রাখেন।
৪৫ মিনিট পর ছাড়া পান তিন সাংবাদিক
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের আনুষ্ঠানিক এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে জানানো হয়, তাদের তিন সাংবাদিক শাশ্বত, সিয়া ও বিজয়কে দিল্লির কনট প্লেস এলাকা থেকে আটক করা হয়।
পরে তাদের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা যেখানে আটক হয়েছিলেন, সেখান থেকে স্টেডিয়ামটির দূরত্ব প্রায় ১২ কিলোমিটার।
রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে দ্য হিন্দুর এক নারী সাংবাদিককেও কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয়। তাকে পুলিশের একটি বাসে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
ওই সাংবাদিক জানান, তিনি নিজের ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং পরে আটক করেন। নিজের পরিচয় সাংবাদিক হিসেবে জানানোর পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
দিল্লিতে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে একাধিক সাংবাদিক আটক হওয়ার ঘটনায় সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
পূর্বকোণ/নুসরাত



















