চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য

অনলাইন ডেস্ক

৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ১২:২৭ অপরাহ্ণ

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে প্রদর্শিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিশাল নগ্ন সোনালি ভাস্কর্য।
 
 
ভাস্কর্যটি সাড়ে ৮ ফুট উঁচু এই ভাস্কর্যের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ বা কমলা মহামারি। ভাস্কর্যটিতে দেখা যায়, ট্রাম্প এক হাতে একটি গলফ খেলার ক্লাব, অন্য হাতে ন্যায়বিচারের পাল্লা ধরে আছেন। সঙ্গে একটি গলফ বল, যা দেখতে পৃথিবীর মতো।
 
 
‘কিং অভ ইনজাস্টিস’ নামেও পরিচিত এই ভাস্কর্য। এতে নগ্ন ট্রাম্প অপেক্ষাকৃত ছোট পোশাক পরা এক ব্যক্তির কাঁধে চেপে বসে আছেন। দেখে মনে হচ্ছে, ওই ব্যক্তি ট্রাম্পকে কাঁধে নিয়ে ঘুরছেন।
 
 
ফ্রান্সের স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের দুটি ভবনের সংযোগস্থলের অন্যতম ব্যস্ত একটি জায়গায় বিশাল এ ভাস্কর্য রাখা হয়েছে। জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সেটা সেখানে থাকবে।
 
 
ভাস্কর্যের বেদিতে খোদাই করে লেখা আছে: ‘আমি একজন মানুষের পিঠে চেপে বসে আছি। আমার ভারে সে তলিয়ে যাচ্ছে। তাকে সাহায্য করার জন্য আমি যেকোনো কিছু করব। শুধু তার পিঠ থেকে নামব না।’
 
 
ভাস্কর্যটির স্রষ্টা ডেনিশ শিল্পী জেন্স গ্যালশিয়ট বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক বিশ্বব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পথে ট্রাম্প সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি। এই ধ্বংসাত্মক প্রভাবের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে, লড়তে হবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে।’
 
 
গ্যালশিয়ট জানান, তিনি এই ২৩ ক্যারেট সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো এই ভাস্কর্য অনুপ্রেরণা পেয়েছেন বিখ্যাত রূপকথা ‘দি এম্পেররস নিউ ক্লোদস’ থেকে। 
 
 
ওই গল্পে এক অহংকারী রাজা সবচেয়ে দামি পোশাক পরার ভ্রান্ত অহমিকায় সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে রাজপথে হেঁটেছিলেন। ভয় আর চাটুকারিতার কারণে কেউ তাকে নগ্নতার কথা বলার সাহস পায়নি। শেষপর্যন্ত এক শিশু আঙুল তুলে সত্যিটা বলে দেয়, আর রাজা পরিণত হন হাসির পাত্রে।
 
 
এই ভবনে মূর্তিটি প্রদর্শনের জন্য শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ডেনমার্কের বামপন্থি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট সদস্য পার ক্লাউসেন।
 
 
ট্রাম্পের ক্ষোভ বা প্রতিক্রিয়া নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন জানিয়ে তিনি বলেন: ‘কারও চামড়া যদি এতই পাতলা হয় যে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে এই ভাস্কর্য প্রদর্শন দেখে সহ্য করতে পারবেন না, তাহলে বিশ্বমঞ্চে তার জায়গা নেই।’
 
 
এর আগে গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩০তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ৩০) ভাস্কর্যটি প্রদর্শিত হয়েছিল। চলতি বছর জার্মানির মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সেও এটি নজর কেড়েছে।
 
 
ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ভবনে এ ভাস্কর্যের প্রদর্শনী নিয়ে হোয়াইট হাউস এ পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।  
 
 
প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে অরেঞ্জ প্লেগের দর্শনার্থীদের বিনামূল্যে ভাস্কর্যের মিনিয়েচার উপহার দেওয়া হচ্ছে। যে-কেউ যেন বাড়িতে বসেই থ্রিডি প্রিন্টারের সাহায্যে ভাস্কর্যটি তৈরি করতে পারেন, সেজন্য গ্যালশিয়ট অনলাইনে এর প্রয়োজনীয় ফাইলও আপলোড করে দিয়েছেন।
 
 
তবে ট্রাম্পের সোনালি মূর্তি এটাই প্রথম নয়। গত এপ্রিলে মিয়ামিতে তার নিজের গলফ কোর্সে উন্মোচিত হয়েছিল ডন কলোসাস নামক ১৫ ফুট উঁচু আরেকটি মূর্তি। তবে সেটি ছিল পোশাক পরা ট্রাম্পের, সেখানে তিনি মুষ্টিবদ্ধ হাত শূন্যে তুলে দাঁড়িয়ে আছেন।
 
পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট