চট্টগ্রাম সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মিয়ানমার: রাখাইনে বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৮

মিয়ানমার: রাখাইনে বিমান হামলায় শিশুসহ নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক

৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ৭:৫৬ অপরাহ্ণ

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবিরে দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর টানা দুই দিনের সামরিক বিমান হামলায় শিশু ও নারীসহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি এবং একটি যুব অধিকার সংস্থার বরাত দিয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
 
এতে বলা হয়েছে, রাখাইনের জনবহুল বাজারে রক্তক্ষয়ী বিমান হামলায় ৫০ জনের প্রাণহানির ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় একই রাজ্যে আবারও হামলা চালিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী।
 
আরাকান আর্মি এবং পন্নাগুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন বলছে, রবিবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে রাখাইনের পন্নাগুন শহরে সেনাবাহিনীর যুদ্ধবিমান থেকে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়শিবির লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলে ৬ জন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন।
 
সোমবার সকালেও পন্নাগুন শহরের আরেকটি বাস্তুচ্যুত শিবিরে দ্বিতীয় দফায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। হামলায় আরও ২ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে সংগঠন দু’টি।
 
পন্নাগুন ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র কিয়াউ উইন তুন হামলার শিকার দুই শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে বলেন, হামলার শিকার আশ্রয়শিবির দু’টির বাসিন্দাদের প্রায় প্রত্যেকেই গৃহহীন ও বাস্তুচ্যুত সাধারণ নাগরিক।
 
তবে রবিবারের এই প্রাণঘাতী বিমান হামলার ঘটনায় মিয়ানমারের সরকারের কোনও মুখপাত্রের তাৎক্ষণিক মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগের ঘটনাগুলোতে তৎকালীন ক্ষমতাসীন জান্তা বলেছিল, সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষায় সামরিক বাহিনী হামলা পরিচালনায় সবসময় ‘সর্বোচ্চ সংযম’ অবলম্বন করছে।
 
বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যটি বর্তমানে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত মিয়ানমারের অন্যতম প্রধান যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম উপকূলীয় রাখাইনের বিস্তীর্ণ অংশ বর্তমানে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই এলাকা পুনরুদ্ধারে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী মরিয়া হয়ে হামলা চালাচ্ছে।
 
২০২১ সালের শুরুর দিকে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমারে সশস্ত্র রক্তক্ষয়ী সংঘাত চরম আকার ধারণ করে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ১ লাখ মানুষের মৃত্যু এবং গৃহহীন হয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ৩৫ লাখেরও বেশি নাগরিক।
 
এর মাত্র এক সপ্তাহ আগে রাখাইনের কিয়াকতাউ এলাকার একটি ব্যস্ত বাজারের কাছে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হন।
 
সূত্র: রয়টার্স।
 
পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট