মানবমস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ কীভাবে কাজ করে এবং আলো ব্যবহার করে এসব কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন বিজ্ঞানী।
নোবেল কমিটি জানিয়েছে, চ্যানেলরোডপসিন নামের বিশেষ প্রোটিন আবিষ্কারের জন্য পিটার গেলেমান, জর্জ ন্যাগেল ও কার্ল দেইসেরাথকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তাদের গবেষণা স্নায়ুবিজ্ঞানের গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
নোবেল কমিটির তথ্য অনুযায়ী, চ্যানেলরোডপসিন প্রোটিন আবিষ্কারের সঙ্গে পিটার হেগেমান ও জর্জ ন্যাগেলের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অন্যদিকে, এই প্রোটিনকে স্নায়ুকোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ব্যবহারযোগ্য ‘আলোক-নিয়ন্ত্রিত সুইচে’ পরিণত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন কার্ল দেইসেরাথ।
কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়, আলো ব্যবহার করে কোষের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের পথ দেখিয়েছে এই গবেষণা। বিশেষ করে স্নায়ুকোষের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের এই পদ্ধতি মস্তিষ্কের কার্যপ্রক্রিয়া বোঝার পাশাপাশি বিভিন্ন স্নায়ুবিক রোগের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারকে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রোগের কারণ সম্পর্কে নতুন ধারণা, প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসাপদ্ধতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা গবেষণাকে এই পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
১৯০১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত এই বিভাগে মোট ১১৬টি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
নোবেল পুরস্কারের ইতিহাসে চিকিৎসাবিজ্ঞানে সবচেয়ে কম বয়সে পুরস্কার পাওয়া বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক গ্রান্ট ব্যান্টিং। ইনসুলিন আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯২৩ সালে নোবেল পাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৩১ বছর।
অন্যদিকে, এই বিভাগে সবচেয়ে বেশি বয়সে নোবেল পাওয়া বিজ্ঞানী পেটন রাউস। টিউমার সৃষ্টিকারী ভাইরাস নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৬৬ সালে পুরস্কার পাওয়ার সময় তার বয়স ছিল ৮৭ বছর।
পূর্বকোণ/পল্লবী

















