চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

‘হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকতে হবে সৌদি সেনাদের’সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি

হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধে জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকতে হবে সৌদি সেনাদের: গ্র্যান্ড মুফতি

অনলাইন ডেস্ক

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:৪৯ অপরাহ্ণ

ইরানের মদতপুষ্ট ইয়েমেনি গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে লড়াইয়ে সৌদি আরবের সেনাদের জীবন উৎসর্গের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছন সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্মকর্তা গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান। গত কাল বৃহস্পতিবার বিরল এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রকাশিত সেই বিবৃতিতে গ্র্যান্ড মুফতি বলেছেন, “এই মহান দেশকে রক্ষা করা এবং যারা এই ভূখণ্ডের এক ইঞ্চি জায়গাতেও অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করে, তাদের শাস্তি দেওয়া হরো অন্যতম শ্রেষ্ঠ কর্তব্য এবং অত্যন্ত পূণ্যের ইবাদত। এটি এমন ইবাদত, যেটি পালন করার সময় আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে জীবন ও আত্মা উৎসর্গ করা যেতে পারে।”

 

 

ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে ‘জরুরি দায়িত্বগুলোর মধ্যে অন্যতম’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

 

 

 

“আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আপনাদের সহযোগিতা করেন এবং আমাদের প্রিয় দেশ ও ইয়েমেনকে সব ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করেন। আমরা আরও দোয়া করি, তিনি যেন হুথি গোষ্ঠী এবং যারা তাদের সহযোগিতা করছে— তাদের সম্পূর্ণ পরাজয় নিশ্চিত করেন।”

 

 

“সম্মুখসারিতে দায়িত্বরত ভাইরা, আপনাদের আবশ্যিক কর্তব্য হলো—নিজেদের দায়িত্ব পালনে সর্বদা প্রস্তুত থাকা, শাসক ও মাঠপর্যায়ে কমান্ডারদের নির্দেশ মেনে চলা এবং অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আদেশ পালন করা; ঠিক যেমনটি সর্বশক্তিমান আল্লাহ তার নবীর সাহাবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। আপনারা নবীর সাহাবীদের পদাঙ্ক অনুসরণ করছেন এবং মুসলমানদের পবিত্র স্থানসমূহ রক্ষা করছেন।”

 

 

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি বা প্রধান মুফতি দেশটির সর্বোচ্চ পদমর্যাদার এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী ধর্মীয় ও আইনি কর্তৃপক্ষ। তিনি পদাধিকারবলে সৌদির জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিক রিসার্চ অ্যান্ড ইফতা স্থায়ী কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সঙ্গে দেশের ধর্মীয় বিধিবিধান, শিক্ষাক্রম ও চিন্তাধারার ক্ষেত্রে সঠিক ইসলামি ব্যাখ্যা ও পথনির্দেশনা প্রদান করেন। সৌদি আরবের বাদশাহ সরাসরি ডিক্রির মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ দেন এবং পদটি মন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত।

 

 

বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালিহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর নিয়োগ পেয়েছেন।

 

 

সাধারণত রাজনৈতিক কোনো ইস্যুতে গ্র্যান্ড মুফতি বক্তব্য দেন না। সেই হিসেবে শেখ সালিহি বনি ফাওজান আল-ফাওজানের এই বিবৃতি বেশ বিরল।

 

 

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্বের শুরু ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

 

 

২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সৌদি আরবের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিল হুথিরা। তারপর প্রায় চার বছর স্থিতিশীল থাকলেও গত ১৩ জুলাই ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনি বাহিনীর হামলার পর ফের উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে দু’পক্ষের মধ্যে। বর্তমানে সেই উত্তেজনা চরম রূপ নিয়েছে।

 

 

সূত্র : রয়টার্স

 

পূর্বকোণ/আদর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট