চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

ইরান কখনো মাথা নত করবে না, পারমাণবিক কর্মসূচিও ছাড়বে না: পেজেশকিয়ান

অনলাইন ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:০৫ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা প্রায় সাত মাসের যুদ্ধের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দৃঢ়কণ্ঠে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দ্রুত কোনো চুক্তিতে না পৌঁছালে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার যে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

 

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাম্পেরে হুমকির জবাবে পেজেশকিয়ান বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা, চাপ বা খবরদারির মুখে পড়লে ইরানিদের প্রতিরোধ আরও বাড়বে।

 

 

বিবিসি লিখেছে, জাতিসংঘের ৮১ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধরত কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট নিউ ইয়র্কে এসে সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিলেন। পেজেশকিয়ানের ভাষণের সময় অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান মার্কিন প্রতিনিধিরা।

 

 

কয়েক মাস আগেও মার্কিন বিমান হামলা থেকে বাঁচতে যিনি আন্ডারগ্রাউন্ড বাংকার থেকে দেশ পরিচালনা করছিলেন, সেই পেজেশকিয়ান এবার নিউ ইয়র্ক শহরে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কড়া নিরাপত্তায় এসইউভি গাড়িবহর নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন।

 

 

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা কখনোই মাথা নোয়াব না বা নতজানু হব না। তবে গায়ের জোর না দেখালে আমরা সংলাপ, কূটনীতি ও আলোচনার জন্য প্রস্তুত।”

 

 

বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তেহরানের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে বলছি, আমরা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও মানব না।”

 

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্ট আমাদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছেন, অথচ আমরাই সন্ত্রাসের শিকার। এ সময় তিনি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির একটি ছবি তুলে ধরেন।

 

এছাড়া মিনাব ও লামারদে মিসাইল হামলায় নিহত ১৭৫ জনেরও বেশি বেসামরিক নাগরিকের ছবি দেখান তিনি, যাদের দুই-তৃতীয়াংশই শিশু। যুক্তরাষ্ট্র লামারদে হামলার কথা অস্বীকার করেছে এবং মিনাবের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার কথা বলে আসছে।

 

যুদ্ধ থামাতে যে কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত হিসেবে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি জাহাজের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারের দাবি জানান পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “এমনটা হতে পারে না যে, সবাই হরমুজ প্রণালির সুবিধা ভোগ করবে, আর আমাদেরই এই নৌপথ ব্যবহারে বাধা দেওয়া হবে।”

 

গত ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে ইসরায়েল এবং মার্কিন ঘাঁটি থাকা প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। সে সময় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয় তারা। যুদ্ধ শুরুর আগে এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ হত।

 

হরমুজ বন্ধের জবাবে এপ্রিলে ইরানি বন্দর ও জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। জুন মাসে যুদ্ধবিরতি ও প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতা হলেও ইরানি হামলা পুনরায় শুরু হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহালের কারণে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ভেস্তে যায়।

 

ইরান এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে ফি আদায় করতে চায়, যা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যেই বুধবার হরমুজ প্রণালিতে একটি মালবাহী জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারত সরকার এই হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করার দাবি জানিয়েছে।

 

নিউ ইয়র্কে সাধারণ পরিষদের সাইডলাইনে মঙ্গলবার কাতারের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় বসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। জুন মাসের পর এটিই দুই পক্ষের প্রথম আলোচনা। উইটকফ এই আলোচনা নিয়ে আশাব্যঞ্জক কথা বললেও ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, এটা ‘নতুন কিছু নয়’। তিনি জানান, মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরতের শর্তেই অটল রয়েছে তেহরান।

পূর্বকোণ/নুসরাত

কোলকোনো সাজেশন পাওয়া যায়নি

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট