চট্টগ্রাম বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের শুল্ক-হ্রাস প্রস্তাব: অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, ধীরে চলার আহ্বান

বিশ্বব্যাংকের শুল্ক-হ্রাস প্রস্তাব: অর্থনীতিবিদদের সতর্কবার্তা, ধীরে চলার পরামর্শ

অনলাইন ডেস্ক

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও শিল্প-প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্কহার কমানোর সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। কিন্তু দেশের অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতারা এ ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েছেন—তাদের মতে, দ্রুত ও একলপ্তে শুল্ক কমানো হলে ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্প ঝুঁকিতে পড়বে এবং কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা তৈরি হবে।

গত মঙ্গলবার ঢাকার বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে এই মতবিরোধ সামনে আসে। সেমিনারের বিষয় ছিল বাংলাদেশের বাণিজ্যনীতি, জাতীয় শুল্কব্যবস্থা এবং এলডিসি-উত্তরণ পরবর্তী বাণিজ্যচুক্তির প্রেক্ষাপট।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নোরা ডিহেল জানান, বাংলাদেশে নামমাত্র গড় শুল্কহার প্রায় ১৫ শতাংশ হলেও সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক যুক্ত করলে তা ২২ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। তার মূল্যায়ন অনুসারে, এই শুল্ক কমালে শুরুতে সরকারের রাজস্বে টান পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি লাভবান হবে—সঠিক সংস্কার হলে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার সমমূল্যের অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সংযোজন সম্ভব, যা মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির পথও প্রসারিত করবে।

সিপিডির ফাহমিদা খাতুন এই ৪০০ কোটি ডলারের প্রাক্কলনকে অতি উচ্চাশাপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন এবং বলেন, আগে দেশীয় শিল্পের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা তৈরি জরুরি—নইলে শুধু শুল্ক কমানো কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না।

সানেমের সেলিম রায়হান বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য-সুরক্ষাবাদের উত্থানের কথা তুলে ধরে বলেন, এই ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের উচিত ধাপে ধাপে, বিবেচনা করে শুল্ক সংস্কার করা—তাড়াহুড়ো নয়।

এমসিসিআইয়ের কামরান টি রহমান ব্যবসায়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সতর্ক করেন যে আকস্মিক শুল্ক-হ্রাসে অনেক ছোট-মাঝারি কারখানা প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে।

পিআরআইয়ের জায়েদি সাত্তার মনে করেন, বাংলাদেশের মতো অর্থনীতির জন্য আদর্শ গড় শুল্কহার হওয়া উচিত প্রায় ৭ শতাংশ, কিন্তু বর্তমান বহুস্তরীয় কর-শুল্ক কাঠামো তা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রধান অতিথি, এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক, নতুন কোনো বাণিজ্যচুক্তির আগে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া ও প্রভাব-মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

আলোচকদের অভিন্ন সিদ্ধান্ত—শুল্ক সংস্কার প্রয়োজন, কিন্তু তা হতে হবে রাজস্ব আয়, দেশীয় শিল্প-সুরক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ভারসাম্য বজায় রেখে, ধাপে ধাপে এবং সুপরিকল্পিতভাবে।

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন