প্রকৃতি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কৃষ্টি ও ঐতিহ্য উদযাপনের লক্ষ্য নিয়ে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দিনব্যাপী ‘বন ও জীবন উৎসব ২০২৬’।
‘পিটাছড়া বন ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ উদ্যোগ’-এর আয়োজনে আগামী ৩১ অক্টোবর পূর্ব খেদাছড়ার ৩৫ নম্বর খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এই উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকরা জানান, প্রাকৃতিক বনের ধ্বংস রোধ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে পূর্ব পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ৭৫ একর এলাকজুড়ে গড়ে ওঠা পিটাছড়া বন অনন্য এক জীববৈচিত্র্যের আধার। এই বনে প্রায় ১৫০ প্রজাতির পাখি, ২৭ প্রজাতির সাপ, ২০ প্রজাতির ব্যাঙ ও কচ্ছপের পাশাপাশি লজ্জাবতী বানর, বনরুই এবং মেছো বাঘের মতো দুর্লভ বন্যপ্রাণী বসবাস করে। বন সুরক্ষার পাশাপাশি এখানে দেশীয় প্রজাতির ৬ হাজার গাছের একটি নার্সারি, পিটাছড়া মেডিকেল সেন্টার, লাইব্রেরি ও একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ আহমেদ রাসেল বলেন, “মানুষ, বন, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতির পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরার পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং প্রকৃতি সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরিই এই উৎসবের মূল লক্ষ্য।”
দিনব্যাপী নানা আয়োজন
উৎসবের প্রথম পর্বে দুপুর ২টা থেকে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং দুপুর ৩টা থেকে বিভিন্ন জাতিসত্তার পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হবে। এরপর বিকেল ৪টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে খাগড়াছড়ির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সরকারি-বেসরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হবে পাহাড়ের শিশুদের নাটক ‘অরণ্যের খোঁজে’। এছাড়া সন্ধ্যায় পিটাছড়া সাংস্কৃতিক দল, চট্টগ্রামের‘অগ্নিবীণা পাঠাগার’ এবং জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী বগা তালেবের পরিবেশনা।
প্রকৃতিপ্রেমী, গবেষক, সহ সর্বস্তরের মানুষকে এই উৎসবে যোগ দিয়ে বন ও জীবনের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।
পূর্বকোণ/রানা


















