চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

সর্বশেষ:

বোয়ালখালীতে ছড়িয়ে পড়ছে আশংকাজনকহারে

কাশির সিরাপ আর নানা মিশ্রণে তৈরি হচ্ছে নেশাজাতীয় দ্রব্য

সেকান্দর আলম বাবর হ বোয়ালখালী

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | ২:২০ পূর্বাহ্ণ

সন্ধ্যা হতেই উপজেলার প্রায় ঔষধের দোকানে ভীড়? স্বাভাবিক কারণে নয়, অস্বাভাবিক কারণে! ছাত্র-যুবক শ্রেণির এ ভীড়ের কারণ কাশির সিরাপের চাহিদা। না, কোনো চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের বিপরীতে নয়। নিজেদের প্রয়োজনে নিচ্ছে এরা, আবার দোকানিও বেশি বিক্রি ও বেশি মুনাফার আশায় কোনো বাধা ছাড়াই বিক্রি করছে সিরাপ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, লোমহর্ষক ঘটনা। উপজেলাতে মাদক, গাঁজা, আফিমের পাশাপাশি এখন নতুন নেশা দ্রব্যের নাম কাশির সিরাপ! তাও আবার নানা মিশ্রণে তৈরি। প্রতি সন্ধ্যায় এ নেশা দ্রব্য খেয়ে পথে প্রান্তরে মাতলামি করতে দেখা যায় হাজারো যুবককে। এতে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন অভিভাবকরা। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা নেশাতে এ ঝুঁকছেন বেশি। এর পাশাপাশি রয়েছে লেখাপড়া ছেড়ে দেয়া উঠতি বয়সের তরুণরাও। এটি গ্রহণের ফলে সাময়িক স্বাস্থ্যবান হতে পারছেন এমন ধারণা থেকে বাদ যাচ্ছেন না যুবক আর মধ্য বয়সীরা। যতই দিন পার হচ্ছে তা মহামারি আকার ধারণ করছে বোয়ালখালীতে। ডাক্তারের পরামর্শপত্র ছাড়া চাহিবামাত্রই কাশির সিরাপ ঔষধের দোকান থেকে পাওয়া যাচ্ছে বিধায় এটি এখন সহজসাধ্যে হয়ে পড়েছে এলাকায় এলাকায়। অভিভাবকদের অভিযোগ ঔষধের দোকানগুলো বেশি লাভের আশায় ব্যবস্থাপত্র ছাড়া সিরাপ সরবরাহ করাতে এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ না নিলে একটি সমাজ অসুস্থ হয়ে পড়তে বেশি সময় লাগবে না বলে তাদের অভিমত।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় প্রতিটি জংশনে সন্ধ্যা নামতেই নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা শুরু হয়। সন্ধ্যার পর মুরুব্বিরা চায়ের দোকানে কিংবা পাবলিক প্লেসে বসার কোনো পরিবেশ নাই। কারণ নেশাগ্রস্তদের নানান আচরণে ক্ষুদ্ধ তারা।
দেখা গেছে উপজেলার শ্রীপুর ভারাম্বাঘাট, হরিশচন্দ্র মুন্সির ঘাট, খরণদ্বীপের জামতল, কেরাণীবাজার, জ্যৈষ্ঠপুরার গুচ্ছগ্রাম, আমুচিয়ার জঙ্গল অমুচিয়া, মাস্টারবাজার, কানুনগোপাড়া, কড়লডেঙ্গার দাশের দিঘীর পাড়, সারোয়াতলীর বেঙ্গুরা বাজার, লালারহাট, শাকপুরার গোলক মুন্সীরহাট, পশ্চিম গোমদন্ডীর শিল্পাঞ্চল, কধুরখীলের জামতল, নাজির দিঘীর পাড়, চরণদ্বীপের মসজিদঘাট, ভাইগ্যের বাপের দোকান, পোপাদিয়ার ইশ্বর ভট্টের বাজার প্রভৃতি অঞ্চলে অহরহ ঘটছে এ ঘটনা। এ নেশাদ্রব্য সেবন করে নেশাগ্রস্তরা সন্ধ্যা হলেই এলাকায় মাতাল অবস্থায় ঘুরাঘুরি করে। এতে করে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত পথচারী ও বিশেষ করে মহিলারা অনেক সময় লাঞ্চিত হয় বলে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। উঠতি যুবকরা নেশা করার কারণে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, নেশাকারীরা বিভিন্ন ঔষধের দোকান থেকে কাশির সিরাপ, সুডোকপ, ডেক্সটপুটন, এ্যাকব ইত্যাদি ক্রয় করে এর সাথে বিভিন্ন উত্তেজক কেমিক্যাল মিশ্রন সেবন করে। এসব কাশির সিরাপ অতিরিক্ত সেবন করার ফলে তারা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ফার্মেসির মালিক বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যা হলেই বেশ কিছু যুবক কৌশলে ঔষধের ফার্মেসি থেকে

কাশির সিরাপ নিয়ে আশপাশে গিয়ে সেবন করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জিল্লুর রহমান বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত কাশির সিরাপ সেবন করলে অবশ্যই ঝিমুনিসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

থানার পুলিশ পরিদর্শক মুহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ফারুকি বলেন, রাস্তাঘাটে মাতলামি করা অবস্থায় এ পর্যন্ত অনেককে আটক করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কাশির সিরাপ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি করলে ওই বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে দ্রুতই ফলাফল পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট