
চট্টগ্রামের রাউজানে বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত সড়কে আলপনা আঁকার সময় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোহাম্মদ জুয়েল (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্থানীয় যুবদলকমী বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম ছোটন।
জানা যায়, নতুন বছরকে বরণ করতে পাড়ার কয়েকজন তরুণ ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর আলপনা আঁকছিলেন। তাদের কাজে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন জুয়েল। আজ ১৫ এপ্রিল বুধবার সকালে চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কমলারদীঘি কালীবাড়ির সামনে সড়কের ওপর এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ জুয়েল উপজেলার পশ্চিম নোয়াপাড়ার কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক। তার বাবার নাম মরহুম নুরুচ্ছফা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এলাকার তরুণ–যুবকেরা ব্যস্ত সড়কের ওপর আলপনা আঁকছিলেন। এ সময় তাদের কাজে সহায়তা করতে এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে আসেন জুয়েল। আলপনার কাজ তখন শেষ পর্যায়ে ছিল। সড়কের ওপর ‘শুভ ১৪৩৩’ লেখাও শেষ হয়েছিল।
এ সময় হঠাৎ দ্রুতগতির একটি বেপরোয়া পিকআপ ভ্যান এসে জুয়েলকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে তাকে বাঁচানোর কোনো সুযোগ পাওয়া যায়নি।
এলাকার বাসিন্দা ও ফার্নিচার ব্যবসায়ী মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন বলেন, এলাকার তরুণ–যুবকেরা মিলে বর্ষবরণের নানা চিত্র আঁকছিলেন। জুয়েল তাদের কাজে সহায়তা এবং সড়কে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। এ সময় একটি পিকআপ ভ্যান তাঁকে চাপা দেয়। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। মৃত্যুর সংবাদ শুনে জুয়েলের পরিবারে শোকের মাতম শুরু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মামুন ভূঁইয়া বলেন, সড়কে আলপনা আঁকা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পুলিশ তাদের নিষেধ করেছিল এবং সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছিল। তবুও তারা আঁকছিলেন। একপর্যায়ে একটি পিকআপ ভ্যান জুয়েলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের আবেদন করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/পারভেজ