
সন্দ্বীপ নৌরুটে যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম সী-ট্রাক ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’ আকস্মিকভাবে সরিয়ে নেওয়ায় দ্বীপবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সী-ট্রাকটি সন্দ্বীপ ত্যাগ করে কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ সংকটে থাকা সন্দ্বীপবাসীর জন্য এই সী-ট্রাকটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন, জরুরি রোগী স্থানান্তর এবং সাধারণ যাত্রীদের নিরাপদ চলাচলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিল।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল কাদের জানান, সী-ট্রাক থাকায় তারা স্বল্প খরচে পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারতেন, কিন্তু এখন তাদের পুনরায় ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল ট্রলারের ওপর নির্ভর করতে হবে।
সামনে ঈদ থাকায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ, বিকল্প পর্যাপ্ত নৌযান না থাকায় ঈদে বাড়ি ফেরা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।
সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়ার কারণ হিসেবে এর ক্যাপ্টেন ইকরাম উদ্দিন জানান, বিআইডব্লিউটিসি-র (BIWTC) অফিস আদেশ অনুযায়ী তারা মহেশখালীতে একটি পরীক্ষামূলক রুটে চলাচলের জন্য চলে এসেছেন।
তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এর বিকল্প হিসেবে গুপ্তছড়া-বাঁশবাড়িয়া রুটে ‘মালঞ্চ’ নামের একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে।
সন্দ্বীপের সচেতন মহলের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় এখানকার নৌযোগাযোগ নিশ্চিত করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ সী-ট্রাক সরিয়ে নেওয়াকে দায়িত্বজ্ঞানহীন উল্লেখ করে তারা অবিলম্বে সী-ট্রাকটি পুনরায় সন্দ্বীপ রুটে ফিরিয়ে আনার এবং স্থায়ী নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ