
মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা ৭৩ জন জেলেকে দীর্ঘ বন্দীদশা শেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাফ নদীর শূন্যরেখায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাদের গ্রহণ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসে। ফেরত আসামিদের মধ্যে ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ৭ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছেন।
সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় জেলেরা অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারে প্রবেশ করেন। সে সময় আরাকান আর্মি তাদের আটক করে নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দী করে রাখে। মানবিক দিক বিবেচনা করে কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা সমন্বিতভাবে জেলেদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও যোগাযোগের পর প্রথম দফায় এই ৭৩ জনকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া জানান, পবিত্র রমজান মাসের আগেই এই জেলেদের প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। তিনি আরও জানান, মিয়ানমারে আরও যারা অবশিষ্ট বন্দী রয়েছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারে স্বস্তি: টেকনাফ জেটিঘাটে স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিনিধি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতিতে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জেলেদের তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা শুরু হয়। দীর্ঘ সময় পর প্রিয়জনদের ফিরে পেয়ে জেলেদের পরিবারে স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ