চট্টগ্রাম বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাংলাদেশে ক্যান্সার সারভাইভারশিপ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা

বাংলাদেশে ক্যান্সার সারভাইভারশিপ কর্মসূচির প্রয়োজনীয়তা

ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন

১০ জুন, ২০২৬ | ৩:৩০ অপরাহ্ণ

ক্যান্সার একসময় অনেকের মানুষের কাছে প্রায় মৃত্যুদণ্ডের সমার্থক ছিল। রোগ নির্ণয়ের সঙ্গে সঙ্গে রোগী, পরিবার এবং সমাজের মনে ভয়, হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতো। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি, আগেভাগে রোগ নির্ণয়, উন্নত সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং সমন্বিত চিকিৎসাব্যবস্থার ফলে পৃথিবীর বহু দেশে ক্যান্সার এখন আর শুধু মৃত্যুর গল্প নয়; এটি অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগে পরিণত হয়েছে। ক্যান্সারের পরেও মানুষ বেঁচে থাকেন, পরিবারে ফিরে যান, কাজে ফিরে যান, সমাজে অবদান রাখেন এবং নতুনভাবে জীবনকে উপলব্ধি করেন। এই বাস্তবতাই ‘ক্যান্সার সারভাইভারশিপ’ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

 

ক্যান্সার সারভাইভার বলতে শুধু সেই ব্যক্তিকে বোঝায় না যিনি চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়েছেন। আধুনিক সংজ্ঞা অনুযায়ী, ক্যান্সার নির্ণয়ের মুহূর্ত থেকে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত একজন মানুষ ক্যান্সার সারভাইভার। অর্থাৎ রোগ নির্ণয়ের পর থেকে চিকিৎসা, চিকিৎসা-পরবর্তী ফলোআপ, পুনর্বাসন, মানসিক সংগ্রাম, সামাজিক পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপনের পুরো পথটিই সারভাইভারশিপের অংশ।

 

এই ধারণাকে বিশ্বব্যাপী দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে National Cancer Survivors Day একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম রবিবার এই দিবসটি পালিত হয়। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এর সূচনা হলেও এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিবস পালিত হচ্ছে। এর মূল বার্তা অত্যন্ত শক্তিশালী: ক্যান্সার নির্ণয়ের পরেও জীবন আছে, আশা আছে, কর্মক্ষমতা আছে এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

 

উন্নত দেশগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসা শুধু অপারেশন, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। চিকিৎসা শেষে রোগীর জন্য survivorship care plan, ফলোআপ schedule, late side effects monitoring, psychological support, rehabilitation, nutrition advice, fertility counselling, sexual health counselling, return-to-work support এবং family counselling-এসবকেও চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হয়। রোগীকে শুধু বাঁচিয়ে রাখা নয়, তাকে সুস্থ, কর্মক্ষম, মানসিকভাবে শক্ত এবং সামাজিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরিয়ে দেওয়াই আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার লক্ষ্য।

 

বাংলাদেশে এই ধারণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আমাদের দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার প্রধান আলোচ্য বিষয় এখনো রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ব্যয়, হাসপাতালের সীমাবদ্ধতা, রেডিওথেরাপি মেশিনের অভাব, ওষুধের মূল্য এবং দেরিতে রোগ ধরা পড়া। এগুলো অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চিকিৎসা শেষ করার পর রোগীর কী হবে—এই প্রশ্নটি এখনো জাতীয় স্বাস্থ্য আলোচনায় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।

 

বাংলাদেশে ক্যান্সারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আয়ু বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার পরিবর্তন, তামাক ব্যবহার, খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ দূষণ, সংক্রমণ-সম্পর্কিত ক্যান্সার, দেরিতে রোগ নির্ণয় এবং সীমিত চিকিৎসা ব্যবস্থার কারণে ক্যান্সার এখন একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। একইসঙ্গে চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নতির ফলে আগের তুলনায় অনেক বেশি রোগী চিকিৎসার পর দীর্ঘদিন বেঁচে থাকছেন। ফলে বাংলাদেশেও ক্যান্সার সারভাইভারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এই বাড়ন্ত সংখ্যক মানুষকে শুধু ‘চিকিৎসা শেষ’ বলে ছেড়ে দেওয়া যথেষ্ট নয়; তাদের জন্য সংগঠিত সহায়তা ব্যবস্থা দরকার।

 

বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু স্বেচ্ছাসেবী ও রোগীভিত্তিক উদ্যোগ আশার আলো দেখাচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় কিছু স্তন ক্যান্সার সারভাইভার গ্রুপ নারীদের সচেতনতা, অভিজ্ঞতা বিনিময়, মানসিক সাহস প্রদান এবং নতুন রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ করছে। বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসার পর অনেকে নারী শারীরিক পরিবর্তন, আত্মবিশ্বাসের সংকট, পারিবারিক চাপ, দাম্পত্য সমস্যা, কর্মজীবনের অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক কুসংস্কারের মুখোমুখি হন। এই ক্ষেত্রে একজন সারভাইভারের সাহসী অভিজ্ঞতা আরেকজন নতুন রোগীর জন্য বড় মানসিক শক্তি হতে পারে।

 

সাম্প্রতিক সময়ে Center for Cancer Care Foundation বা CCCF-এর মতো সংগঠন ক্যান্সার রোগী, সারভাইভার, পরিবার, কেয়ারগিভার এবং চিকিৎসকদের যুক্ত করে সচেতনতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সামাজিক সহায়তার একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্যান্সার সারভাইভারশিপ শুধু চিকিৎসকদের বিষয় নয়; এটি রোগী, পরিবার, সমাজ, হাসপাতাল, সরকার, গণমাধ্যম এবং নাগরিক সমাজের যৌথ দায়িত্ব।

 

বাংলাদেশের ক্যান্সার রোগীরা চিকিৎসার সময় যেমন কষ্টের মুখোমুখি হন, চিকিৎসার পরেও তাঁদের সংগ্রাম শেষ হয় না। অনেকের দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, দুর্বলতা, হাত-পা রিমঝিম করা, লিম্ফিডিমা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, গিলতে সমস্যা, যৌন সমস্যা, বন্ধ্যাত্ব, হরমোনজনিত সমস্যা, স্মৃতিশক্তি বা মনোযোগের সমস্যা, depression, anxiety গেস recurrence-এর ভয় থাকে। অনেকেই জানেন না কোন উপসর্গ স্বাভাবিক, কোনটি বিপজ্জনক, কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে, কতদিন ফলোআপ করতে হবে, কী পরীক্ষা লাগবে, খাদ্যাভ্যাস কেমন হবে বা ব্যায়াম করা নিরাপদ কি না।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয় আর্থিক চাপ। ক্যান্সার চিকিৎসায় অনেক পরিবার সঞ্চয় হারায়, ঋণগ্রস্ত হয়, জমি বিক্রি করে, সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ করে বা কর্মক্ষম সদস্যকে হারায়। চিকিৎসা শেষ হলেও আর্থিক পুনর্বাসন হয় না। অনেক রোগী কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হন। কেউ কেউ ক্যান্সারকে ছোঁয়াচে রোগ মনে করে দূরে সরে যায়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে ক্যান্সারের নিয়ে লজ্জা, ভয় ও ভুল ধারণা এখনো গভীর।

 

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশে একটি জাতীয় ক্যান্সার সারভাইভারশিপ কর্মসূচি গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। প্রথমত, প্রতিটি বড় ক্যান্সার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে survivorship clinic চালু করা প্রয়োজন। সেখানে অনকোলজিস্ট, সার্জন, রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, মেডিকেল অনকোলজিস্ট, নার্স, পুষ্টিবিদ, ফিজিওথেরাপিস্ট, কাউন্সিলর, সমাজকর্মী এবং প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসক একসঙ্গে কাজ করবেন। চিকিৎসা শেষে রোগীকে শুধু ‘ফলোআপে আসবেন’ বলা যথেষ্ট নয়; তাঁকে একটি লিখিত survivorship care plan দেওয়া উচিত।

 

এই care plan-এ উল্লেখ থাকবে রোগীর ক্যান্সারের ধরন, স্টেজ, কী চিকিৎসা পেয়েছেন, সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, কখন কোন পরীক্ষা করতে হবে, কোন উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগ করতে হবে, কী ধরনের জীবনযাপন প্রয়োজন, কোন খাবার ও ব্যায়াম উপকারী, মানসিক সহায়তা কোথায় পাওয়া যাবে এবং প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসকের ভূমিকা কী হবে।

 

দ্বিতীয়ত, জেলাপর্যায়ে ক্যান্সার সারভাইভার সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি করা প্রয়োজন। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগ দিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতা মোকাবিলা করা যাবে না। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহসহ প্রতিটি বিভাগীয় শহরে এবং ধীরে ধীরে জেলা পর্যায়ে ক্যান্সার সারভাইভার গ্রুপ গড়ে তোলা দরকার। এসব গ্রুপে সারভাইভাররা নতুন রোগীদের সঙ্গে কথা বলবেন, অভিজ্ঞতা ভাগ করবেন, চিকিৎসা সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেবেন এবং ভয় দূর করতে সাহায্য করবেন।

 

তৃতীয়ত, স্তন ক্যান্সার, জরায়ুমুখ ক্যান্সার, colorectal cancer, head and neck cancer, prostate cancer এবং childhood cancer সারভাইভারদের জন্য আলাদা সহায়তা কাঠামো তৈরি করা উচিত। প্রত্যেক ক্যান্সারের চিকিৎসা-পরবর্তী সমস্যা একরকম নয়। যেমন স্তন ক্যান্সারে লিম্ফিডিমা ও body image সমস্যা গুরুত্বপূর্ণ, head and neck cancer-এ গিলতে সমস্যা ও কথা বলার সমস্যা বড় বিষয়, childhood cancer survivor-দের ক্ষেত্রে বৃদ্ধি, শিক্ষা, fertility এবং দীর্ঘমেয়াদি organ toxicity গুরুত্বপূর্ণ।

 

চতুর্থত, মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্যান্সার চিকিৎসার অংশ করতে হবে। আমাদের দেশে ক্যান্সারের রোগীর মানসিক কষ্টকে অনেক সময় ‘স্বাভাবিক দুঃখ’ বলে উপেক্ষা করা হয়। কিন্তু depression, anxiety, fear of recurrence, sleep disturbance এবং family stress চিকিৎসায়োগ্য সমস্যা। প্রতিটি ক্যান্সার কেন্দ্রে counselling service থাকা প্রয়োজন। পরিবারকেও counselling-এর আওতায় আনা দরকার, কারণ ক্যান্সার শুধু একজন রোগীর নয়; পুরো পরিবারের অভিজ্ঞতা।

 

এছাড়াও ক্যান্সার সারভাইভারদের জন্য পুনর্বাসন কর্মসূচি দরকার। ফিজিওথেরাপি, occupational therapy, speech and swallowing therapy, pain management, nutrition support এবং return-to-work counselling অনেক রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে। বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থায় rehabilitation এখনো যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। অথচ চিকিৎসা শেষ করার পর রোগীর কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

 

দরিদ্র রোগীদের জন্য চিকিৎসা-পরবর্তী সহায়তা তহবিল দরকার। ক্যান্সার চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি যাতায়াত, পুষ্টি, থাকার ব্যবস্থা, follow-up test Ges supportive medicine-এর খরচও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি জাতীয় ক্যান্সার ফান্ড গঠন করা যেতে পারে, যেখানে সরকার, বেসরকারি খাত, প্রবাসী বাংলাদেশি, দাতব্য সংস্থা এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠান অবদান রাখতে পারে।

 

সারভাইভারশিপের জন্য গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে ক্যান্সার নিয়ে অনেক সংবাদ প্রকাশিত হয়, কিন্তু ক্যান্সারজয়ীদের গল্প খুব কম সামনে আসে। সংবাদপত্র, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্যান্সার সারভাইভারদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা দরকার। এতে নতুন রোগীরা সাহস পাবেন, পরিবার আশাবাদী হবে এবং সমাজে ক্যান্সার সম্পর্কে ভুল ধারণা কমবে।

 

আমাদের দেশে ক্যান্সার রেজিস্ট্রি ও survivorship data সংগ্রহ জরুরি। বাংলাদেশে কতজন ক্যান্সার রোগী চিকিৎসার পর বেঁচে আছেন, তাঁদের কী সমস্যা হচ্ছে, কে follow-up হারিয়ে ফেলছেন, তারা কাজে ফিরতে পারছেন কি না, তারা মানসিক সহায়তা প্রয়োজন—এসব তথ্য ছাড়া কার্যকর নীতি তৈরি করা কঠিন। তাই জাতীয় ক্যান্সার রেজিস্ট্রির পাশাপাশি survivorship registry গড়ে তোলা প্রয়োজন।

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া দরকার। অনেক ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা শেষে নিজ এলাকায় ফিরে যান। তখন তাঁদের দেখেন স্থানীয় চিকিৎসকরা। তাই প্রাইমারি কেয়ার চিকিৎসকদের জানতে হবে ক্যান্সার চিকিৎসার late effects, recurrence warning signs, screening for second cancer, psychosocial issues Ges referral pathway সম্পর্কে।

 

দেশের স্কুল, কলেজ, কর্মক্ষেত্র এবং ধর্মীয়-সামাজিক প্রতিষ্ঠানে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াতে হবে। ক্যান্সার সারভাইভারদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমাজের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে ক্যান্সারজয়ীদের জন্য সহানুভূতিশীল নীতি থাকা উচিত। চিকিৎসা শেষে একজন মানুষকে চাকরি, পরিবার ও সমাজে ফিরে আসার সুযোগ দিতে হবে।

 

বাংলাদেশে ক্যান্সার সারভাইভারশিপ আন্দোলন এখনো শুরুর পর্যায়ে। কিন্তু এটাই সঠিক সময় ভিত্তি গড়ে তোলার। আজ যেসব মানুষ ক্যান্সারের চিকিৎসা শেষে বেঁচে আছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা আগামী দিনের রোগীদের পথ দেখাতে পারে। তাঁদের কণ্ঠস্বর নীতিনির্ধারণে যুক্ত করতে হবে। তাঁরা শুধু রোগী নন; তাঁরা অভিজ্ঞতা, সাহস এবং পরিবর্তনের প্রতিনিধি।

 

আমাদের জাতীয় বার্তা হওয়া উচিত: ক্যান্সার মানেই মৃত্যু নয়। ক্যান্সার নির্ণয়ের পরেও জীবন আছে। কিন্তু সেই জীবনকে সুন্দর, নিরাপদ, কর্মক্ষম ও মর্যাদাপূর্ণ করতে হলে চিকিৎসা-পরবর্তী সেবা, মানসিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

 

বাংলাদেশে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি এখন ক্যান্সার সারভাইভারশিপকে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির অংশ করার সময় এসেছে। প্রতিটি ক্যান্সার রোগীর অধিকার আছে শুধু চিকিৎসা পাওয়ার নয়, চিকিৎসার পর ভালোভাবে বেঁচে থাকারও। ক্যান্সারজয়ীদের পাশে দাঁড়ানো তাই কেবল মানবিক দায়িত্ব নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জনস্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অঙ্গ।

 

ডা. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন রেডিয়েশন অনকোলজিস্ট, সেইন্ট জন রিজিওনাল হাসপাতাল, নিউ ব্রান্সউইক। অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর, ডালহৌসি ইউনিভার্সিটি, কানাডা।

পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট