চট্টগ্রাম আজ শুধু একটি শহরের নাম নয়- এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির স্পন্দিত হৃদয়, যেখানে প্রতিদিন বন্দর ঘিরে ঘোরে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য, যেখানে শিল্প, কর্মসংস্থান আর স্বপ্ন একসঙ্গে জড়িয়ে থাকে। অথচ এই শহরটিই বছরের পর বছর ধরে এক অদ্ভুত পরিহাসের শিকার- হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়, অসংখ্য প্রকল্প, সভা, সিদ্ধান্ত-সবকিছুর পরও মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই ডুবে যায় চট্টগ্রাম। প্রশ্নটা তাই শুধু জলাবদ্ধতার নয়; প্রশ্নটা আমাদের পরিকল্পনা, জবাবদিহি, রাষ্ট্রীয় দক্ষতা এবং নাগরিক ভবিষ্যতেরও।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বলছে, প্রায় একদশক ধরে চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পগুলোতে ব্যয়ের পরিমাণ ১৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার মধ্যে ইতোমধ্যে খরচ হয়ে গেছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই নগরের প্রবর্তক, আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, হালিশহরসহ অন্তত ২০টি এলাকা হাঁটু থেকে বুকসমান পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও পানি নামতে লাগে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, কোথাও তারও বেশি। এই দৃশ্য লাখো মানুষের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। প্রকাশিত সংবাদে দেখা যাচ্ছে, মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় শাহেদ আলম নামের এক দোকানদারের রান্না করা খাবার ভেসে গেছে, তানভির আহমেদ নামের এক ব্যবসায়ীর ৫০ লাখ টাকার ব্যবসা এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে গেছে, বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে তরুণ চিকিৎসক নাবিলার নতুন চেম্বারের স্বপ্ন। এভাবে আরো অসংখ্যজনের সর্বনাশ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- এর জন্যে দায়ী কে? কেনো বছরের পর বছর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও কাক্সিক্ষত সুফল মিলছে না। কেনো জলজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগরীর স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না? এর দায় কি সংশ্লিষ্টরা এড়াতে পারবেন?
নগরপরিকল্পনাবিদরা বলছেন- সমস্যার মূল কারণ খুঁজতে গেলে প্রথমেই যে বিষয়টি সামনে আসে, তা হলো পরিকল্পনার গলদ। জলাবদ্ধতার মতো একটি জটিল নগরসমস্যাকে আমরা শুরু থেকেই খন্ডিতভাবে দেখেছি। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড-তিনটি আলাদা সংস্থা আলাদা প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যানের অধীনে নয়। ফলে একটি খাল খনন করা হচ্ছে, অন্যদিকে সেই খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনেজব্যবস্থা অকার্যকর রয়ে যাচ্ছে। কোথাও রেগুলেটর আছে, কিন্তু তা সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। কোথাও পাম্প আছে, কিন্তু তার সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। এর ফলে পুরো ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়ছে। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায় যে সুপারিশগুলো ছিল- নতুন খাল খনন, জলাধার সংরক্ষণ, সিল্ট ট্র্যাপ নির্মাণ, টাইডাল রেগুলেটর স্থাপন; তার অনেকগুলোই বর্তমান প্রকল্পে উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে রিটেনশন পন্ড বা জলাধার সংরক্ষণের বিষয়টি কার্যত বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ বিজ্ঞান বলছে, একটি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে শুধু পানি বের করে দেওয়াই যথেষ্ট নয়; অতিরিক্ত পানি সাময়িকভাবে ধরে রাখার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। যখন বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হতে পারে না, তখন সেই পানি ধারণ করার জায়গা না থাকলে তা উপচে পড়ে শহরকে ডুবিয়ে দেয়।
আরেকটি বড় ব্যর্থতা হলো খালব্যবস্থাপনায়। চট্টগ্রামে মোট ৭৪টি খাল থাকলেও বড় প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে মাত্র ৩৬টি খাল। বাকি ৩৮টি খাল অবহেলিত থেকে গেছে। এর মানে হলো, পানির স্বাভাবিক প্রবাহের অর্ধেক পথই কার্যত বন্ধ। বিজ্ঞানসম্মত ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতিটি খাল, প্রতিটি শাখা খাল, প্রতিটি নালা একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। সেখানে যদি কোনো একটি অংশ অকার্যকর হয়, পুরো ব্যবস্থাই ব্যর্থ হয়ে পড়ে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটছে- একদিকে খাল খনন হচ্ছে, অন্যদিকে সংযুক্ত খালগুলো ভরাট, দখল বা আবর্জনায় বন্ধ হয়ে আছে। খালের এই করুণ চিত্র শুধু অব্যবস্থাপনার নয়, এটি একটি পরিবেশগত বিপর্যয়ের ইঙ্গিত। একসময় যে খালগুলো দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করত, সেগুলো আজ প্লাস্টিক, পলিথিন, শিল্পবর্জ্য আর পলিতে ভরাট হয়ে মৃতপ্রায়। পানির প্রবাহ কমে গিয়ে কোথাও কোথাও স্থির হয়ে আছে কালচে, দুর্গন্ধযুক্ত পানি। খালের দুই পাশে অবৈধ দখল, পাকা স্থাপনা, বর্জ্য ফেলার পাইপ- সব মিলিয়ে খালগুলো তাদের স্বাভাবিক অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে উঠে সড়ক ও বসতবাড়িতে ঢুকে পড়ে।
এই সমস্যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে জোয়ার-ভাটার প্রভাবও। চট্টগ্রাম একটি উপক‚লীয় শহর, যেখানে কর্ণফুলী নদী ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত খালগুলোর মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন হয়। জোয়ারের সময় যখন নদীর পানি উচ্চ থাকে, তখন শহরের পানি বের হতে পারে না। তখন প্রয়োজন হয় কার্যকর টাইডাল রেগুলেটর ও পাম্পিং ব্যবস্থার। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রকল্পগুলোতে এই বিষয়টি সমন্বিতভাবে বিবেচনা করা হয়নি। ফলে বৃষ্টির সময় জোয়ার থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সমস্যার আরেকটি বড় দিক হলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাব। প্রকল্প বাস্তবায়নই যেন শেষ লক্ষ্য, কিন্তু তার পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। খাল খনন করা হচ্ছে, কিন্তু নিয়মিত সিল্ট অপসারণ হচ্ছে না। ড্রেন তৈরি করা হচ্ছে, কিন্তু তা পরিষ্কার রাখা হচ্ছে না। পাম্প বসানো হচ্ছে, কিন্তু তা নিয়মিত চালু রাখা হচ্ছে না। এর ফলে অল্পসময়ের মধ্যেই প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার যাদেরকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাদের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। ঠিকাদারদের সততা, যোগ্যতা, আন্তরিকতা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এখানে নাগরিক দায়িত্বের প্রশ্নটিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্লাস্টিক, পলিথিন, বোতলসহ কঠিন বর্জ্য নির্বিচারে খাল ও ড্রেনে ফেলা হচ্ছে, যা অল্পসময়ের মধ্যেই পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকার উদ্যোগ নিলেও যদি নাগরিক আচরণ পরিবর্তন না হয়, তাহলে কোনো প্রকল্পই টেকসই হবে না। তবে এই দায় পুরোপুরি নাগরিকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও সঠিক নয়; কার্যকর বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এবারের জলাবদ্ধতায় অস্থায়ী বাঁধের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে এসেছে। হিজড়া ও জামালখান খালে কাজের জন্য দেওয়া বাঁধগুলো সময়মতো অপসারণ করা হয়নি, যার ফলে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এটি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়হীনতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বৈশাখ মাসে বৃষ্টি হবে- এটি একটি স্বাভাবিক বিষয়। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় না এনে কাজ চালানো মানে প্রকল্পকে নিজেই অকার্যকর করে তোলা। সিডিএ চেয়ারম্যানসহ অনেকেই বলবেন হয়তো, এভাবে হঠাৎ মুষুলধারে বৃষ্টি নামবে তা কখনো ভাবা হয়নি। কিন্তু প্রচণ্ড দাবদাহ যে বজ্রমেঘ তৈরি করে, এবং বজ্রমেঘ যে হঠাৎ ‘আকাশভাঙা’ বৃষ্টি নামায়, তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। কিছুদিন আগেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতসহ কয়েকটি দেশে এমনটি দেখা গেছে। বাংলাদেশেও অতীতে এমন দৃষ্টান্ত আছে। তাই গত কয়েকদিন ধরে যখন প্রচণ্ড দাবদাহ দেখা গেছে, এবং আবহাওয়া দপ্তর বজ্রমেঘ ও বজ্রপাতসহ তীব্র বৃষ্টি নামার পূর্বাভাস দিয়েছে, তখন জলজট-জলমগ্নতা-জলাবদ্ধতা প্রতিরোধে কার্যকর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি কেন? সে প্রশ্নও সামনে এসে যায়। এসব প্রেক্ষাপটে নগরে জলমগ্নতার দায় কার? এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, দায় সামষ্টিক। দায় শুধু একটি সংস্থা বা একটি সরকারের নয়; এটি একটি ধারাবাহিক ব্যর্থতার ফল। পরিকল্পনাকারীরা যথাযথ সমীক্ষা করেননি, নীতিনির্ধারকেরা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করেছেন, বাস্তবায়নকারীরা সমন্বয় করতে ব্যর্থ হয়েছেন, আর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও জবাবদিহির অভাব।
তবে শুধু দায় নির্ধারণ করে থেমে থাকলে চলবে না; এখন প্রয়োজন বিজ্ঞানভিত্তিক, সমন্বিত ও টেকসই সমাধান। প্রথমত, চট্টগ্রামের জন্য একটি আপডেটেড, সমন্বিত ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করতে হবে, যেখানে নগরের সব খাল, নালা, ড্রেন, নদী, জলাধার এবং জোয়ার-ভাটার প্রভাব একসঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এই পরিকল্পনায় হাইড্রোলজিক্যাল মডেলিং ব্যবহার করে বৃষ্টিপাতের ধরন, পানির প্রবাহ, ধারণক্ষমতা-সবকিছুর বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রকল্পের বাইরে থাকা সব খাল দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং দখলমুক্ত করতে হবে। খালগুলোর প্রস্থ ও গভীরতা পুনরুদ্ধার করতে হবে এবং সেগুলোকে একটি সংযুক্ত নেটওয়ার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে খালের মুখে কার্যকর টাইডাল রেগুলেটর ও পাম্পিং স্টেশন স্থাপন করতে হবে, যাতে জোয়ারের সময়ও পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়। তৃতীয়ত, রিটেনশন পন্ড বা জলাধার পুনরুদ্ধার ও নতুন করে তৈরি করতে হবে। নগরের নিচু জমি, বিল, জলাশয় সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে অতিরিক্ত পানি সাময়িকভাবে ধরে রাখা যায়। এটি জলাবদ্ধতা কমানোর একটি অত্যন্ত কার্যকর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। চতুর্থত, একটি একক কর্তৃপক্ষের অধীনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে তিনটি সংস্থা আলাদা আলাদা দায়িত্ব পালন করছে, যা সমন্বয়হীনতার জন্ম দিচ্ছে। একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড আরবান ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’ গঠন করে সব কার্যক্রম এক ছাতার নিচে আনতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত ফল পেতে ‘নগর সরকার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ একমাত্র নগর সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে একটি ছাতার নিচে যুক্ত করার কাজটি সহজ হবে। নগরের আওতাভুক্ত সব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর সিটি মেয়রের কর্তৃত্ব থাকলে, এবং নগরীর সব উন্নয়ন কাজে সমন্বয় থাকলে যে সমস্যার দ্রুত ও টেকসই সমাধান সম্ভব। নগর সরকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি রাজধানী ঢাকার পর বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রামের মেয়রের পদমর্যাদাও মন্ত্রীর পদমর্যাদায় উন্নীত করা উচিত। পঞ্চমত, বর্জ্যব্যবস্থাপনায় বিপ্লব ঘটাতে হবে। কঠিন বর্জ্য সংগ্রহ, পুনর্ব্যবহার এবং নিষ্পত্তির জন্য আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে কেউ খাল বা ড্রেনে বর্জ্য ফেলতে সাহস না পায়। ষষ্ঠত, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় রিয়েল-টাইম মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। কোথায় কাজ হচ্ছে, কোথায় বাধা আছে, কোথায় পানি জমছে- এসব তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার ছাড়া আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহি। যত বড় প্রকল্পই নেওয়া হোক, যদি তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা না থাকে, যদি ব্যর্থতার জন্য কেউ দায় না নেয়, তাহলে সেই প্রকল্প জনগণের কোনো কাজে আসে না। চট্টগ্রামের মানুষ আর আশ্বাস শুনতে চায় না; তারা ফলাফল দেখতে চায়।
চট্টগ্রাম বারবার ডুবছে- এটি শুধু একটি শহরের দুর্ভাগ্য নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন চিন্তার একটি আয়না। এই আয়নায় আমরা দেখতে পাই আমাদের সীমাবদ্ধতা, আমাদের অবহেলা, আমাদের ভুল সিদ্ধান্ত। কিন্তু একইসঙ্গে এটি আমাদের সামনে একটি সুযোগও এনে দেয়- ভুল থেকে শেখার, নতুনভাবে শুরু করার। যদি আমরা সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে সমস্যা সমাধানে তৎপর না হই, যদি সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ না নিই, যদি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করি, নাগরিকসহ সবপক্ষ যদি সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় না দিই, তাহলে আগামী বছরগুলোতেও একই দৃশ্য ফিরে আসবে- বৃষ্টির পানি, ভাসমান শহর, আর অসহায় মানুষের দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু যদি আমরা সত্যিই পরিবর্তন চাই, যদি আমরা পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারি, তাহলে একদিন হয়তো চট্টগ্রাম আর ডুববে না, জলজট ও জলাবদ্ধামুক্ত সুন্দর বাসযোগ্য নগরীর স্বপ্ন পূরণ হবে। একটি টেকসই, সহনশীল ও আধুনিক নগরের প্রতীক হয়ে উঠবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম।
















