শব্দ ছাড়াই কথা বলা যায়। অনুভূতি, প্রয়োজন, ভালোবাসা কিংবা প্রতিবাদের ভাষাও প্রকাশ করা যায় হাতের ইশারা ও অঙ্গভঙ্গিতে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ‘সাইন ল্যাংগুয়েজ ডে’ বা ‘আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস’। সারাবিশ্বে পালিত হয় এই দিনটি। যারা কথা বলতে পারেন না, তাদের ভাষার প্রতি সম্মান রেখেই এই দিবস পালন করা হয়। তাদের আছে ৩০০টিরও বেশি সাংকেতিক ভাষা।
২০১৭ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে বধির মানুষদের অধিকার আরও দৃঢ় করতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আন্তর্জাতিক ইশারা ভাষা দিবস বা সাংকেতিক ভাষা দিবসের ওপর গুরুত্বারোপ করে।
তবে সাধারণ মানুষের অনেকেই জানেন না যে, এই সাংকেতিক ভাষাগুলো প্রকৃতপক্ষে একটি পূর্ণাঙ্গ ভাষা। আমাদের দেশে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ জানুয়ারি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৭ ফেব্রুয়ারিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাংলা ইশারা ভাষা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
তবে আন্তর্জাতিকভাবে এই ভাষার দিবস শুরু হয় ১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে। আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা শুরু হয় ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে। দিবসটি পালন করার শুরু হয় মূলত ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ সংস্থাই।
যারা কানে শুনতে পান না, তাদের জন্য সাইন ল্যাংগুয়েজ একমাত্র ভরসা। অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য তারা এসব সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে থাকে। বিশ্বজুড়ে কতটি সাংকেতিক ভাষার অস্তিত্ব আছে তার সুস্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে প্রতিটি দেশের নিজস্ব কিছু সাংকেতিক ভাষা আছে। আবার অনেক দেশে এই ভাষার সংখ্যা একাধিক। সাংকেতিক ভাষার প্রথম লিখিত রেকর্ডটি ছিল প্লেটোর ক্র্যাটাইলাসের। সেটি লেখা হয়েছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৫ শতক থেকে।
কথ্য ভাষা এবং সাংকেতিক ভাষার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ভর করে বিভিন্ন দেশের ওপর। এটি কোন কোন দেশে ব্যবহার করা যাবে, তা নির্ভর করবে কথ্য একই ভাষা কোনো কোনো দেশে একই। তবে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব দ্য ডেফ অ্যান্ড ডেফে আন্তর্জাতিক সাইন ব্যবহার করা হয়। এটি গেসতুনো নামে পরিচিত ছিল। যেটি ফরাসি সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ থেকে উদ্ভূত। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ান এবং ব্রিটিশ সাংকেতিক ভাষার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। আন্তর্জাতিক ইভেন্টে এই ভাষা বধির ব্যক্তিরা ব্যবহার করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্যে।
পূর্বকোণ/ইবনুর


















