রেলওয়ের আড়াই একরের বেশি জমি অবৈধ দখল ও সরকারি বিপুল রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগে মিরসরাইয়ের সাবেক এমপি মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক। ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভূ-সম্পত্তি নীতির ব্যত্যয় ঘটিয়ে কারখানা ও ভবন নির্মাণের দায়ে দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম-২ জেলা কার্যালয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুদকের সমন্বিত চট্টগ্রাম-২ জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পরিবেশবান্ধব সিমেন্ট, বালি ও হলো ব্লক কারখানা স্থাপনের জন্য মিরসরাই উপজেলার পশ্চিম হিংগুলী মৌজায় বাংলাদেশ রেলওয়ের ৩ দশমিক ৭৫৬৪ একর জমি দীর্ঘমেয়াদি লিজ পেতে আবেদন করেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। তবে ইজারা মঞ্জুর হওয়ার আগেই তিনি অবৈধভাবে জমি দখল করে ৬ হাজার ৪৮৯ বর্গফুটের সেমিপাকা কারখানা এবং ৯৯০ বর্গফুটের দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ শুরু করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যের নামে কৃষি ও মৎস্য চাষের জন্য লিজ দেওয়া জমি এবং বিএস ৫১২০ দাগের পুকুর ভরাট করে দখলে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ভূ-সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা শিথিল করে তৎকালীন রেলমন্ত্রীর নির্দেশনায় গ্যাসমিন লিমিটেডকে বিএস ৫১১৯ দাগ থেকে মাত্র ০ দশমিক ৭৪ একর বা ৩২ হাজার ১৩০ বর্গফুট জমি বার্ষিক নবায়নের ভিত্তিতে লিজ দেওয়া হয়।
দুদকের সরেজমিন অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, অনুমোদিত ০ দশমিক ৭৪ একর জমির বিপরীতে বিএস ৫১১৯ ও ৫১২০ দাগের মোট ২ দশমিক ২৮ একর বা ২২৮ শতক জমি দখলে রেখে ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করছেন মাহবুব উর রহমান রুহেল। দখল করা জমিতে কারখানা, অফিসকক্ষ, মসজিদ, অজুখানা এবং ব্লক রাখা ও শুকানোর জন্য বড় মাঠ ও পানির ট্যাংক রয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অনুমোদিত ০ দশমিক ৭৪ একর জমির বিপরীতে ভ্যাট ও আয়করসহ মোট ৪৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৯ টাকা ইজারামূল্য পরিশোধ করা হয়।
অন্যদিকে, প্রকৃত দখলে থাকা ২ দশমিক ২৮ একর জমির বিপরীতে সরকারের প্রাপ্য ছিল ১ কোটি ৫৭ লাখ ৩১ হাজার ৬৪৬ টাকা। এ হিসাবে অতিরিক্ত ১৫৪ শতক জমি অবৈধভাবে দখলে রেখে ব্যবহারের মাধ্যমে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৬ হাজার ১১৭ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় এ দখল ও আত্মসাৎ সংক্রান্ত ঘটনার সময় ধরা হয়েছে ২০১৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪২৭ ও ৪৪৭ ধারায় আসামির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা, ক্ষতিসাধন ও অবৈধ দখলের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/রানা



















