
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বেতন-ভাতা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও এক প্রধান শিক্ষকের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ট্রেজারি অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
এতে কিছু সময়ের জন্য অফিস এলাকায় উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন ট্রেজারি অফিসে বেতন-ভাতার বিল সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ করতে গেলে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়লে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এই বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তার বেতন বিল আটকে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখার নিয়ম নেই।
তিনি আরও বলেন, ট্রেজারি অফিসে বিল পাসের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা চাওয়া হয় এবং প্রতিবাদ করায় তাকে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জসিম উদ্দিন ২৮ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। অনুপস্থিতিকালীন ছুটির বৈধ প্রত্যয়নপত্র জমা না দেওয়ায় সরকারি বিধি অনুযায়ী তার বেতন বিল স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক জসিম উদ্দিন অফিসে এসে সরকারি নথিপত্র টানাটানি করে ছিঁড়ে ফেলেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. সেলিম রেজা জানান, জসিম উদ্দিন কয়েক মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। নতুন প্রধান শিক্ষক বিষয়টি লিখিতভাবে জানানোয় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। মূলত অনুপস্থিতিকালীন প্রত্যয়নপত্র চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে।
পূর্বকোণ/সিজান/এএইচ