‘আলোর জন্য যুক্তি’ স্লোগানে ১০টি স্কুলের ৪০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে সম্পন্ন হলো চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বিতর্ক সংগঠন ‘দৃষ্টি চট্টগ্রাম’-এর নিয়মিত বিতর্ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ‘দৃষ্টি স্কুল অব ডিবেট’ (বাংলা ও ইংরেজি)-এর ৩৪তম ব্যাচের সমাপনী ও সমাবর্তন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) নগরীর একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কলিম সরওয়ার, সংগঠক ও ব্যাংকার মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম, শিক্ষাবিদ বৃজেট ডায়েস, ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক সাইফ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি সাইফুদ্দিন মুন্নান।
দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সংগঠক বনকুসুম বড়ুয়া নুপুর, শহিদুল ইসলাম, সাবের শাহ, জুয়েল আহমেদ, সাংবাদিক মেহেরাজ আলম, প্রধান সমন্বয়কারী মুন্না মজুমদার ও সংগঠক জুনায়েদ আসাদ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দীন বলেন, যুক্তিনির্ভর সমাজ গঠনে বিতর্কচর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। বিতর্ক শিক্ষার্থীদের শুধু বক্তব্য উপস্থাপনের দক্ষতা অর্জন করায় না, বরং যেকোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা, তথ্য যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশের সক্ষমতা তৈরি করে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কলিম সরওয়ার বলেন, বর্তমান সময়ে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিপরীতে যুক্তিবাদী ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা জরুরি। বিতর্কচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন করার মানসিকতা ও সত্য অনুসন্ধানের প্রবণতা তৈরি হয়।
মোহাম্মদ তারেকুল ইসলাম বলেন, বিতর্ক শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলি ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও সমাজজীবনে বিতর্কের মাধ্যমে অর্জিত দক্ষতা শিক্ষার্থীদের কাজে লাগবে।
শিক্ষাবিদ বৃজেট ডায়েস বলেন, শুধু প্রতিযোগিতায় জয়ী হওয়াই বিতর্কের মূল লক্ষ্য নয়; যুক্তি, শৃঙ্খলা ও অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষাই বিতর্কচর্চার বড় অর্জন।
ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক সাইফ চৌধুরী বলেন, যুক্তি ও তথ্যনির্ভর চিন্তার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীকে জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।
মিনহাজুল ইসলাম বলেন, একজন দক্ষ বিতার্কিককে একই সঙ্গে ভালো বক্তা ও মনোযোগী শ্রোতা হতে হয়। সমাজ ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিষয়ে তরুণদের সচেতন করে তুলতে বিতর্কচর্চার পরিধি আরও বিস্তৃত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে দৃষ্টি চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ বকুল বলেন, “ইচ্ছাশক্তি মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই শক্তিতে বলীয়ান হয়ে একজন মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে।” তিনি আরও বলেন, দৃষ্টি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তাদের আপন শক্তিতে জ্বলে ওঠা এবং নেতৃত্ব সৃষ্টির জন্য উৎসাহিত করে যাচ্ছে।
এবারের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় চট্টগ্রামের ১০টি স্কুলের মোট ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের বিতর্কের বিভিন্ন ধারা, যুক্তি তৈরি ও খণ্ডন, বক্তব্য উপস্থাপন, উচ্চারণ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সদ্য এমবিবিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় দৃষ্টি চট্টগ্রামের সদস্য ডা. ইয়াসিন সাকিবকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ৩৪তম ব্যাচের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

















