দৈনিক পূর্বকোণের প্রতিষ্ঠাতা, একুশে পদক প্রাপ্ত (মরণোত্তর) চট্টলদরদী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী যেদিন ইন্তেকাল করেন, সেদিন বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন আবু তাহের মুহাম্মদ। আর আমি লেট নাইট, রিপোর্টার ছিলেন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য ২০০৭ সালে ৭ সেপ্টেম্বর পবিত্র মক্কায় গমন করেন। মক্কায় পৌঁছার পরদিন সকালেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিকেলে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জিয়াদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর এ অসুস্থতার খবরে চট্টগ্রামের সাংবাদিকপাড়াসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ওই সময়ে আমরা ডেস্কে থমথমে পরিবেশে কাজ করছিলাম। কয়েক ঘণ্টা পরপর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমাদের প্রাণপ্রিয় চেয়ারম্যানের স্বাস্থ্যের অবনতির খবর পাচ্ছিলাম। অবশেষে ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১২টায় আত্মীয়-স্বজন, সাংবাদিক, বন্ধু-বান্ধবসহ চট্টলাবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন অবহেলিত বঞ্চিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পথিকৃৎ মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী।
রাতে যখন মৃত্যুর খবর পূর্বকোণ ডেস্কে পৌঁছায়, তখন সবেমাত্র আমাকে পত্রিকার ডামি বুঝিয়ে দিয়ে তাহের ভাই বিদায় নিয়েছেন। আমি দ্রুত ফোনে তাকে খবরটি দিয়ে নিচে নেমে ড্রাইভার নুরুকে বললাম, গাড়ি স্টার্ট দেন, তাহের ভাইকে আবার আনতে হবে। তিনি বললেন, কেন, কি হয়েছে? বললাম, চেয়ারম্যান সাহেব আর নেই। শুনে তার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। অস্ফুটস্বরে বললেন, কি বলেন! তিনি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় লেফটে এমন গতিতে টার্ন নিল, ভাগ্যিস এশিয়ান হাইওয়েতে কোনো দ্রুতগামী যান ছিল না।
নির্ঘাত কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত পারত। লক্ষ্য করলাম তার হাত দুটো কাঁপছে। বললাম, গাড়ি আস্তে চালান। আমার কাছে মনে হলো, পিতা-মাতার মতো সে যেন তার কোনো অভিভাবককে হারিয়ে ফেলেছেন। যাহোক, জিইসির মোড়স্থ ইউনস্কো টাওয়ারের পাশে পৌঁছার পর দেখলাম, তাহের ভাই গলির মুখে লুঙ্গি পরে দাঁড়িয়ে আছেন। মনে হয়, বাসায় পৌঁছে কাপড়-চোপড় পাল্টে ভাত খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাহের ভাইসহ দ্রুত অফিসে ফিরে এলাম। এরই মধ্যে রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ডেথ নিউজ প্রায় রেডি করে ফেলেছেন। তখনও ডেস্কে কম্পিউটার ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়নি।
হাতে লিখে চলতো সাংবাদিকতা। এর আগে চেয়ারম্যান সাহেবের শারিরীক অবস্থার অবনতির খবর শুনে নিউজ এডিটর সাহেব রিয়াজকে দিয়ে ইউসুফ চৌধুরীর একটি বর্ণাঢ্য জীবনী আগেই তৈরি করে রেখেছিলেন। যাতে করে গভীর রাতে মৃত্যু হলে নিউজটি পত্রিকায় ছাপানো যায়। সেটিই কাজে লাগলো। তাহের ভাই নিউজটি পড়ে আমাকে দিলেন রিভিশন দিয়ে একটা হেডলাইন দিতে এবং সতর্ক করে দিলেন এই বলে যে, কোনো ভুলভাল হলে চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। পত্রিকায় ভুল গেলে লেট নাইটকে জবাদিহি করতে হতো। আমি নিউজটি আগাগোড়া পড়ে হেডলাইনে ইউসুফ চৌধুরীর নামের আগে কি কি বিশেষণ দেব তাহের ভাইয়ের কাছে পরামর্শ চাইলাম।
তিনি শোল্ডারে বিশেষণ দিয়ে হেডলাইন করতে বললেন। পরদিন সকালে পূর্বকোণের লিড স্টোরিতে ৬ কলামে ছাপা হলো- ‘মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী আর নেই’। সাথে পূর্বকোণের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ইউসুফ চৌধুরীর একটি সর্বশেষ সাক্ষাতকার রিয়াজ হায়দারের বাইলাইনে প্রকাশিত হয়। সুদীর্ঘ এই সাক্ষাতকারে তিনি সংবাদপত্রের মাধ্যমে কৃষকের জীবন আলোকিত করার তাঁর স্বপ্নের কথা বলে গেছেন। পত্রিকায় মৃত্যুর খবর পেয়ে দলে দলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অফিসে এসে ভিড় জমাতে লাগলো। যে মানুষটি অবহেলিত এ জনপদের উন্নয়নে ৮৬ বছর বয়সেও নিরলস কাজ করে গেছেন, ঝড়-ঝঞ্ঝা উপেক্ষা করে সভা-সমাবেশ, সেমিনার, মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন, এ অঞ্চলের মুখপত্র দৈনিক পূর্বকোণের মাধ্যমে চট্টলবাসীর অভাব-অভিযোগ, সমস্যা ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরেছেন, তিনি যে আজ তাদের মধ্যে নেই! মৃত্যুর তিনদিন পর ১২ সেপ্টেম্বর ফজরের নামাজের পর মসজিদুল হারামে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মরহুমের মেজপুত্র দি পূর্বকোণ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও প্রকাশক জসিম উদ্দিন চৌধুরী এবং কনিষ্ঠ পুত্র পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. ম. রমিজউদ্দিন চৌধুরীসহ প্রবাসের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। পরে সকাল ৯টায় মক্কার সরায়ে মকবরায় মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরীর মরদেহ দাফন করা হয়। এরমধ্যে দিয়ে ইতি ঘটে ৮৬ বছরের এক বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের।
ইউসুফ চৌধুরী যেমন ছিলেন কর্মনিষ্ঠ, তেমনি সময়নিষ্ঠ। অশীতিপর হয়েও নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা অফিস করতেন। নিজে সবকিছু দেখভাল করতেন। একদিনের ঘটনা, আমি পূর্বকোণ ডেস্কে যোগ দিয়েছি ৬ মাসও পেরোয়নি। অফিস আওয়ার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা। ওইদিন যানজটের কারণে অফিসে পৌঁছুতে প্রায় আধাঘণ্টা লেট হয়ে যায়। মূল ফটক দিয়ে ঢুকতেই অফিসের আলমগীর জানালেন, চেয়ারম্যান চাচা উপরে ডেস্কে বসে আছেন। সর্বনাশ! তিনিতো দোতলায় উঠেন না, নিচে তাঁর অফিসেই বসেন। আমি আর নিউজ ডেস্কে না গিয়ে বেরিয়ে অফিসের পাশে সবুজের দোকানে গিয়ে এককাপ চা নিয়ে কিছুক্ষণ সময় কাটালাম। মিনিট পনেরো পরে ডেস্কের এক কলিগকে ফোন দিলাম।
তিনি বললেন, চেয়ারম্যান সাহেব এখনও দরজার সামনে চেয়ার নিয়ে বসে আছেন। যিনি বিলম্বে আসছেন তাকে পাকড়াও (জবাবদিহি) করছেন। আমি ওই কলিগকে বললাম, নিউজ এডিটর আসলে জানাবেন আমি অসুস্থ, আসতে পারব না। সাতটা বেজে গেছে, আমি আর অফিসে না গিয়ে প্রেস ক্লাবে চলে গেলাম। আমি লক্ষ্য করেছি, পূর্বকোণ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসার ব্যাপারে যত কঠোর ছিলেন, কাজশেষে যাবার ব্যাপারে ততটা ছিলেন না। মরহুম সম্পাদক স্থপতি তসলিমউদ্দিন চৌধুরী নিউজ এডিটরকে বলতেন, সবাইকে রাত ১২টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখার দরকার নেই। কাজ শেষ হলে আগেভাগে ছেড়ে দিও। আর এখনতো ফিঙ্গার প্রিন্টসহ পাঞ্চ মেশিন আছে।
মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী সাংবাদিক-কর্মচারীদের সুখ-দুঃখের খবরাখবর নিতেন। বিপদ-আপদ ও প্রয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছেন। বিশেষ করে, সুইপার, ড্রাইভার, মেশিনম্যান, পিয়ন, টেলিফোন অপারেটর, কম্পিউটার অপারেটরসহ স্বল্প বেতনভুক্ত কর্মচারীদের সাথে তাঁর দারুণ সখ্য ছিল। অনেককে নানাভাবে সহায়তা করেছেন। তারাও তাঁকে প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতেন। চেয়ারম্যান সাহেবের মৃত্যুসংবাদ শুনে ড্রাইভার নুরুর প্রতিক্রিয়া থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।
আমার চাকুরির ইন্টারভিউ নেয়াকালে প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেছিলেন, ‘কষ্ট করে হলেও আমি বেতনটা দশ তারিখ দিয়ে দেই। কেননা, আমি জানি মুদি দোকানদার, ফার্মেসির মালিক, বাড়ির জমিদার ও হাউস টিউটাররা দিনটির অপেক্ষায় থাকে।’ তাঁর অবর্তমানে এ ধারা এখনও অব্যাহত রেখেছেন সন্তানরা। একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ পত্রিকার স্বপ্ন অনেক আগেই দেখেছিলেন ইউসুফ চৌধুরী। লক্ষ্য, ব্যবসার পাশাপাশি অবহেলিত চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও এ অঞ্চলের বঞ্চিত জনগণের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরা। তবে আটঘাট বেঁধে নামতে সময় নিচ্ছিলেন। পরিকল্পনামাফিক মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী সম্পাদক হিসেবে ঢাকা থেকে নিয়ে এসেছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত দেশবরেণ্য প্রথিতযশা সাংবাদিক কে. জি. মোস্তফাকে। সাথে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে একঝাঁক মেধাবী সাংবাদিক।
বিশেষ করে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা কিছু তরুণ-তরুণীকে নিউজ ডেস্কে কাজ করার সুযোগ দেন, যাদের কয়েকজন এখন জাতীয় দৈনিকে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। পূর্বকোণের প্রতিটি বিভাগে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে একটি কার্যকর প্রশাসন গড়ে তুলেছিলেন ইউসুফ চৌধুরী। এখানেই তাঁর সার্থকতা। কেননা, পরিবার থেকে শুরু করে যেকোনো প্রতিষ্ঠান এমনকি রাষ্ট্র পর্যন্ত মুখ থুবড়ে পড়ে যদি দক্ষ প্রশাসন না থাকে।
১৯৮৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে পূর্বকোণ প্রকাশিত হয়ে সাড়া ফেলে দেয়। ঝকঝকে তকতকে প্রিন্ট, নান্দনিক গেটআপ, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ, দুর্দান্ত এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের লেটেস্ট আপডেট, মফস্বল নিউজের প্রাধান্য, স্বনামধন্য কলামিস্টদের সমৃদ্ধ উপসম্পাদকীয়, বিভিন্ন ফিচার পাতার ক্যারিশমাটিক আয়োজন-সব মিলিয়ে পত্রিকাটি দ্রুত পাঠক হাতে তুলে নেয়। শুরু থেকেই চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা, স্থানীয় সমস্যা ও উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ইস্যুগুলোতেও পত্রিকাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। পূর্বকোণ দেশের সংকটে পথ দেখিয়েছে। সমস্যা সমাধানে এগিয়ে এসেছে। সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে।
কালক্রমে দৈনিক পূর্বকোণ সেরা আঞ্চলিক পত্রিকার তকমা অর্জনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের গণমানুষের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছে। মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী তাঁর প্রজ্ঞা, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে পূর্বকোণকে করে তুলেছিলেন চট্টগ্রামবাসীর মুখপত্র। আর এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন চট্টলদরদী। ইউসুফ চৌধুরীর জীবন ও কর্ম কেবল সাংবাদিকতা কিংবা কৃষি উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি চট্টগ্রামের সার্বিক উন্নয়নে আজীবন কাজ করে গেছেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও সংবাদমাধ্যম, সবক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন স্থায়ী অবদান। আমৃত্যু চট্টগ্রামের উন্নয়নে সোচ্চার ছিলেন ইউসুফ চৌধুরী।
তিনি বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে চট্টগ্রামের নানা সমস্যা সমাধানে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেন। জলজট ও যানজট নিরসন, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও সংস্কার এবং পানি সংকট নিরসনে তিনি সোচ্চার ছিলেন। চট্টগ্রামে ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশ, বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং চট্টগ্রামে শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরিবেশ রক্ষাসহ হালদা আন্দোলন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি কলেজ ও পরবর্তীতে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো গবাদিপশু মেলা অনুষ্ঠিত হয়, যা ডেইরি শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শুধু তাই নয়, গরু নিয়ে মিছিল করার মতো অভিনব কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি প্রাণিসম্পদ ও কৃষি উন্নয়নে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯২ সাল থেকে তিনি ডেইরি ও পোল্ট্রি শিল্পের আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি ফার্ম এসোসিয়েশনের আমৃত্যু সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ইউসুফ চৌধুরী ছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিকে ধরে রাখার একনিষ্ঠ কর্মী। তাঁর নিজ বাড়িতে কবির স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ, নজরুল মেলা আয়োজন এবং নজরুল পাঠাগার স্থাপন করেন তিনি। মানবসেবায় অনন্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ২০২৫ সালের মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করে।
১৯৯১ সালে মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক নওশের আলী খানের (বর্তমানে সিটি এডিটর, দৈনিক পূর্বকোণ) হাত ধরে দৈনিক নয়াবংলায় সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি হলেও পূর্বকোণের মতো একটা পত্রিকায় চাকরি করা আমার স্বপ্ন ছিল। পূর্বকোণে কাজ করার সুযোগ দিয়ে আমার দীর্ঘদিনের সেই লালিত স্বপ্ন পূরণ করেছেন চট্টলদরদী মোহাম্মদ ইউসুফ চৌধুরী। গত ৯ সেপ্টেম্বর ছিল এই মহান ব্যক্তিত্বের ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন বহুকাল। তাঁর সংগ্রামী জীবন ও অনুকরণীয় আদর্শ যুগে যিগে তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। মহান রব্বুল আলামিন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।
পূর্বকোণ/নুসরাত

















