চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগাম তথ্য না দেওয়ায় সৌদিকে চিঠি ঢাকার

মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: আগাম তথ্য না দেওয়ায় সৌদিকে চিঠি ঢাকার

অনলাইন ডেস্ক

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ১১:০০ অপরাহ্ণ

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কায় একটি অপরাধের দায়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আগে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পরই বিষয়টি জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট ও ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরে আসে। আন্তর্জাতিক নিয়ম ও ভিয়েনা কনভেনশন উপেক্ষা করে নেওয়া এই আকস্মিক পদক্ষেপে চরম বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়ে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়েছে জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জেদ্দা কনস্যুলেটের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার। গত বুধবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘সৌদি প্রেস এজেন্সি’ (এসপিএ) দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দুই বাংলাদেশির দণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ করে। পরবর্তীতে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক গণমাধ্যম গালফ নিউজ জানায়, মক্কার একটি মসজিদে অনৈতিক ও অশালীন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে বিচার বিভাগে বিষয়টি পাঠানো হলে শরিয়াহ আইনের ‘তাআজির’ (বিচারকের স্বেচ্ছাধীন শাস্তি) বিধানে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উচ্চতর বিচারিক আদালত রায় বহাল রাখলে রাজকীয় আদেশে তা কার্যকর করা হয়। তবে এই দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া কিংবা গ্রেপ্তারের বিষয়টি বাংলাদেশ দূতাবাসকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনস্যুলার সম্পর্ক বিষয়ক ১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—কোনো বিদেশি নাগরিক গ্রেপ্তার বা আটক হলে, আটককারী দেশ অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট দেশের কনস্যুলেটকে তা জানাতে এবং কনস্যুলার সহায়তার সুযোগ দিতে বাধ্য। দুই বাংলাদেশির ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক নিয়ম সম্পূর্ণ অমূল্যায়িত রয়ে গেছে। আসামিরা কোনো আইনি সহায়তার সুযোগ পেয়েছিলেন কি না কিংবা নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে গভীর ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

শুধু তথ্য চাওয়া নয়, জোরালো প্রতিবাদ জানাতে হবে: শরিফুল হাসান

আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান।

এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “১৯৬৩ সালের ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আটক নাগরিককে কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া বাধ্যবাধকতা হলেও সৌদি কর্তৃপক্ষ তা করার প্রয়োজনই মনে করেনি। একবার ভেবে দেখুন, বাংলাদেশ যদি সৌদি আরবকে না জানিয়ে তাঁদের দুই নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করত, তবে তার আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতো?”

ঘটনাস্থল ও অভিযোগের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “যে ঘটনার ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলো, সেখানে কি আদৌ মৃত্যুদণ্ডের বিধান প্রযোজ্য হতে পারে? মিডিয়া যে অনৈতিক কাজের কথা বলছে, সেটির সত্যতা কীভাবে নিশ্চিত হওয়া গেল? কূটনৈতিক দুর্বলতা না দেখিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়টি নিয়ে সৌদির কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আইনি ব্যাখ্যা দাবি করা। কেবল চিঠি পাঠিয়ে তথ্য চাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না।”

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট