চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে সরকারি কর্মচারীদের সিন্ডিকেট, গ্রেপ্তার ৭

যুব উন্নয়নের প্রশ্নফাঁসের নেপথ্যে সরকারি কর্মচারীদের সিন্ডিকেট, গ্রেপ্তার ৭

অনলাইন ডেস্ক

১৬ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬:৫৬ অপরাহ্ণ

সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় সর্ষের মধ্যেই ভূতের সন্ধান মিলেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পেছনে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের একদল অসাধু কর্মচারী। অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মচারীসহ সংঘবদ্ধ জালিয়াতি চক্রের ৭ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। দেশের লাখ লাখ বেকার তরুণ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় পরীক্ষার হলে বসার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটে এই নজিরবিহীন জালিয়াতি। পরীক্ষা শুরুর ঠিক ৫৭ মিনিট আগে, অর্থাৎ সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি হাতেনাতে প্রমাণিত হলে বাধ্য হয়ে পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় পরদিন ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

পরীক্ষা বাতিল ও মামলা দায়েরের পরপরই ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারিতে নামে এসআরবি। সংস্থাটি ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রাজধানীর মতিঝিল, উত্তরখান, মিরপুর, সাভার ও মোহাম্মদপুর এলাকায় ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম, অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ ও কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর, পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সাথে চক্রের অন্যতম দুই সহযোগী মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান সুজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এসআরবির প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চালানো এই জালিয়াতি সিন্ডিকেটের ভয়াবহ ফাঁদের চিত্র। গত ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে নূর মোহাম্মদ একটি গোপন উৎস থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। পরবর্তীতে সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে জাহাঙ্গীর তাঁকে প্রশ্নপত্রের একদম স্পষ্ট ছবি পাঠান। ছবি পাওয়ার পরপরই নূর মোহাম্মদ নিজে দ্রুত প্রশ্নগুলোর সমাধান তৈরি করেন এবং জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুলের কাছে পাঠায়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই চক্রের অন্য সদস্য রুবেল, মফিজুল, সুজন ও আসাদুলের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর কাছে সেই প্রশ্ন ও সমাধান পৌঁছে দেওয়া হয়। জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত মফিজুল ইসলাম পূর্বে নিজেই চাকরির জন্য ১৭ লাখ টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়েছিলেন, পরবর্তীতে সেই ক্ষতি পুষিয়ে সহজে বিপুল অর্থ উপার্জনের লোভে তিনি এই অপরাধ চক্রের সক্রিয় সদস্য বনে যান।

অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে প্রশ্নপত্রের ১টি সেট ছাড়াও চাকরিপ্রার্থীদের জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মারাত্মক সব আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১০০ ও ৫০ টাকার ১২০টি খালি স্ট্যাম্প, ৪৯টি ব্যাংক চেক, বিভিন্ন পরীক্ষার ১৯ পাতা প্রবেশপত্র, ২৫টি একাডেমিক ও অন্যান্য সনদপত্র, ৬টি জাতীয় পরিচয়পত্র, ৮টি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা। এসআরবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই প্রশ্ন ফাঁসের মূল উৎস কোথায় ও এর নেপথ্যে কোন কোন প্রভাবশালী ব্যক্তি বা আর্থিক লেনদেন জড়িত রয়েছে, তা উদঘাটনে গভীর তদন্ত অব্যাহত রাখা হয়েছে।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট