চট্টগ্রাম বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, নিহত যুবক

সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনিতে যুবক নিহত

অনলাইন ডেস্ক

১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩:১১ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলায় ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গণপিটুনির শিকার হন শামীম। খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

 

সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, শামীম মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।

 

স্থানীয়রা জানায়, শামীমের কয়েকটি অডিও কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই অডিওতে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে, এমন মন্তব্য রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার (১২ অক্টোবর) রাতে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার বাড়িতে যান। এ সময় শামীম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তার ভাইয়েরা তাকে উদ্ধার করে কুলিয়া এলাকার সবুর ডাক্তারের চেম্বারে ভর্তি করেন।

 

এদিকে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তেজিত লোকজন কুলিয়ার ওই চেম্বারে গিয়ে শামীমকে মারধর করেন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানেও দ্বিতীয় দফায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

 

শামীমের ছোট ভাই সাগর হোসেন বলেন, তারা পাঁচ ভাই। শামীম ছিলেন চতুর্থ। তিনি মাদ্রাসা থেকে কামিল পাস করার পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার দুই সন্তান রয়েছে।

 

সাগর বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে ভাই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিনি কখনো স্বাভাবিক আচরণ করতেন, আবার কখনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলতেন। তার চিকিৎসা চলছিল। তিনি যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তাহলে আইনের মাধ্যমে তার বিচার হতে পারত। এভাবে পিটিয়ে তাকে মেরে ফেলা হলো কেন? আমরা কিছুই করতে পারিনি। সামনে এগোলে আমাদেরও মারধর করা হতো।’

 

তিনি আরও বলেন, দুই দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শামীমের ঝগড়া হয়। ওই সময় তাদের কথাবার্তা আশপাশের কেউ রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেন বলে তাদের ধারণা। এতে লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ঝগড়ার পর শামীম বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরে তাকে কুলিয়ার গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সেখানেই তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে আবারও মারধর করে তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

 

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যার আগে শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে কয়েক শ বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে তাকে আবারও মারধর করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই বিক্ষোভকারীরা সেখান থেকে চলে যান। পরে শামীমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

ওসি আরও বলেন, শত শত মানুষ জড়ো হয়ে মব তৈরি করেছিল। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগের কথা বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের বলতে শুনেছেন তিনি। তবে ঠিক কী মন্তব্যের কারণে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।

পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট