বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে কানাডায় শরণার্থী হিসেবে রয়েছেন এবং কোনো আইনি মর্যাদা ছাড়াই দিন কাটাচ্ছেন। টরন্টোতে ছোট মেয়ের সঙ্গে থাকা সিনহার দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের আমলে একটি সাজানো মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় তিনি কানাডায় স্থায়ী বসবাসের কার্ড পাচ্ছেন না।
তাঁর ভাষ্য, স্ত্রীর স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (পিআর) মিললেও তাঁর পিআর অনুমোদন মিলছে না পুলিশি প্রতিবেদন না আসার কারণে।
২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি তিনি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো অমুসলিম প্রধান বিচারপতির নিয়োগ। ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তার ৮২ দিন আগে তিনি পদত্যাগ করেন।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়কে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকারের সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় বলে জানান সিনহা। ওই সংশোধনীতে বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালের ৩ জুলাই তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল খারিজ করে, ফলে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতেই অপসারণের ক্ষমতা থেকে যায়।
তাঁর অভিযোগ, রায়ের আগে সরকারের পক্ষে মত দিতে তাঁর ওপর চাপ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজি হননি।
২০১৭ সালের ২ অক্টোবর এক মাসের ছুটি চেয়ে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেন তিনি। ১৩ অক্টোবর রাতে ঢাকা ছেড়ে অস্ট্রেলিয়া যান। যাওয়ার আগে তিনি বলেছিলেন, তিনি অসুস্থ নন, বিচার বিভাগের স্বার্থে সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ছেন। পরে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে তিনি আবার কানাডায় ফেরেন।
এখন দেশে ফিরতে চান বলে জানিয়েছেন সিনহা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই তিনি পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু দুই বছরের বেশি সময়েও তা পাননি। টরন্টোয় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল কার্যালয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন; সর্বশেষ ৪ আগস্ট ই-মেইলে তাগাদা দিয়েও কোনো সাড়া পাননি।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ



















