চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

উৎপাদনের দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা

উৎপাদনের দুই দিনের মাথায় আবারও বন্ধ যমুনা সার কারখানা

অনলাইন ডেস্ক

৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩:২০ অপরাহ্ণ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানার উৎপাদন আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর চালু হওয়ার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটিতে বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সারিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানার উৎপাদন।
 
 
আট মাস বন্ধ থাকার পর দুদিন আগে গত মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। বুধবার বিকালে কারখানার বয়লারে ত্রুটি দেখা দিলে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান মো. ফজলুল হক।
 
 
তিনি বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস পেয়ে সোমবার রাত ৩টা ১০ মিনিটের দিকে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। বুধবার বিকেলে বয়লারের ত্রুটি দেখা দিলে আবারো উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
 
 
তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার জন্য বয়লারে এ ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কারখানার অন্যান্য যন্ত্রাংশ সচল রয়েছে। শুক্রবারের মধ্যে বয়লারের সমস্যার সমধান হলে কারখানা আবারো উৎপাদনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছি।”
 
পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুইদিন মোট এক হাজার ৬০০ টন সার উৎপাদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
 
যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১ হাজার ৭০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপ স্বল্পতা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে দৈনিক ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
 
 
এর আগে, গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আট মাস পর গ্যাস সংযোগ পেয়ে গত মঙ্গলবার রাতে কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু করে।
 
 
কারখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।
 
কারখানার কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ থাকলে সেখানে মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানার মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতেও গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।
 
পূর্বকোণ/মিফতা

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট