চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সিজারের পর পেটে গজ, ৬ মাস পর প্রাণ গেল সেই নার্স বিথীর

সিজারের পর পেটে গজ, ৬ মাস পর প্রাণ গেল সেই নার্স বিথীর

অনলাইন ডেস্ক

৮ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:৪০ অপরাহ্ণ

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার ঘটনায় ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন।
 
 
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
 
 
 
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্বামী রাকিবুল ইসলাম। বিথী গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমিজ উদ্দিন মৃধার পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
 
 
জানা গেছে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দের অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন বিথী। এরপর থেকেই তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগতে থাকেন। এবং দিন দিন তার অবস্থার অবনতি হয়। অসুস্থতার কারণে ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি।
 
 
 
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথী আক্তারের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের সময় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের অবহেলায় তার পেটের ভেতর গজ রেখে সেলাই দিয়ে দেয়। এরপর থেকেই তার তীব্র যন্ত্রণা ও দীর্ঘ জটিলতা শুরু হয়। শারীরিক অবস্থার আশঙ্কাজনক অবনতি হলে প্রথম অপারেশনের প্রায় দুই মাস পর ১৫ জুলাই আবারও বড় ধরনের অপারেশন করাতে হয়। এরপর চিকিৎসাধীন থাকাকালীন অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে রাখা হয় কয়েকদিন। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। এক পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ৪ অক্টোবর নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ সকালে তার মৃত্যু হয়।
 
 
বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেলে তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এখন এই ছোট্ট শিশু বাচ্চাকে নিয়ে কী করবেন বুঝতে পারছেন না। চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় তার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে তিনি মামলা করবেন। আর কারও সঙ্গে যেন এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
 
 
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি আমি শুনেছি, অত্যন্ত দুঃখজনক। কয়েকদিন আগে বিথীর বাচ্চাকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং বুধবার জেলা প্রশাসক গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। সেই সঙ্গে ওই পরিবারের কোনো সহযোগিতার সুযোগ থাকলে করা হবে।
 
পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট