একাধিক খাদ্যভিত্তিক ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কার্যক্রমের কার্যকর সমন্বয় করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তুলে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। মঙ্গলবার প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমিত রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোকে আরও সুনির্দিষ্টভাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার বাইরে রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারের ‘ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’র বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এদিকে দেশের সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেছে বিশ্বব্যাংক। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, কম রাজস্ব আদায় এবং বিনিয়োগে স্থবিরতার কারণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে এবং ২০২৮ অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের জুনে দেশের ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি, জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণ মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে আসায় সরকারের উন্নয়ন ব্যয় সীমিত হয়ে পড়েছে। অর্থনৈতিক এই মন্দার প্রভাবে নতুন করে প্রায় ২১ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মুখে পড়েছে এবং কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ব্যাংকিং খাত, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি সরবরাহে দ্রুত ও সাহসী সংস্কারের ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিভাগের পরিচালক জ্যঁ পেসমে। কাঠামোগত এসব দুর্বলতা দ্রুত দূর করা না গেলে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা কঠিন হবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
পূর্বকোণ/ঐশী

















