জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিং আইনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে হাজিরা দিতে আদালতে হাজির করা হয়। হাজিরা শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ও প্রিজনভ্যান থেকে পলক হাতকড়া পরা হাত উঁচিয়ে বলেন, “জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।”
সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে পলকের দুর্নীতি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন তদন্ত সংস্থা দুদক প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এজন্য আগামী ২৩ নভেম্বর প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন দিয়েছে আদালত। প্রসিকিউশন পুলিশের সহকারি পরিচালক আমিনুল ইসলাম এ তথ্য দেন।
পলককে আদালতে হাজির করা হলেও এদিন তাকে এজলাসে তোলা হয়নি। তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। মামলার শুনানি শেষে হাজতখানা থেকে প্রিজনভ্যানে নেওয়ার পথে পলক বলেন, “জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত।” এরপর তাকে বহনকারী প্রিজনভ্যান আদালত প্রাঙ্গন ছাড়ে। ‘জং ধরা হ্যান্ডকাফে রক্তাক্ত হাত’ বলতে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বুঝিয়েছেন তার ব্যাখা দিয়েছেন আইনজীবী তরিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন,”দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি কারাগারে রয়েছেন। তাকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। উনাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। ন্যায়বিচার থেকে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন এটাই তিনি বুঝাতে চেয়েছেন।” ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বিত ঢাকা জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, “জুনাইদ আহমেদ পলক অবৈধ উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ আট কোটি ৭৩ লাখ ৪৭ হাজার ৪২ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে তা ভোগদখলে রেখেছেন। একইসাথে নিজ নামে ২৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩২ কোটি চার লাখ ৯৫ হাজার ৩১৪ টাকা জমা এবং ২৯ কোটি ৮৪ লাখ ৭২ হাজার ৯৫ টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক লেনদেন করে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন।”
আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ১৫ অগাস্ট পলককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন সময় হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পূর্বকোণ/নুসরাত

















