জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া ২৭ নেতাকর্মীর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং ঘটনাটি বিশদ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন। প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই মাসুম মিয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তদন্ত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামিরা দলটির কার্যালয়ের অভ্যন্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও অসৎ উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন। তাদের উপস্থিতি ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে না পারায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানায় পুলিশ।
এর আগে শনিবার দুপুরে গুলিস্তানে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালিত এক অভিযানে প্রায় ৩০০ জনকে হেফাজতে নেয় পল্টন থানা পুলিশ। যাচাই-বাছাই শেষে রোববার ২৪৯ জনকে মুক্তি দেওয়া হলেও অবশিষ্ট ২৭ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অভিযানের পর মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতা যৌথভাবে এ পদক্ষেপ নেয়। ডিএমপির মিডিয়া উইং জানায়, কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনাকর স্লোগান ও গোপন বৈঠকের খবরে পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
তবে জাসদের পক্ষে দপ্তর সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন দাবি করেন, পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেই সারাদেশ থেকে আসা দলীয় প্রতিনিধিদের নিয়ে সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বহিরাগতদের হামলার পর পুলিশ এসে দলীয় নেতাকর্মীদের আটক করে। অন্যদিকে, অভিযানের সময় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের উপস্থিতি ও গোপন বৈঠকের অভিযোগ তোলা হলেও জাসদ তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। আদালত উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে শুনানি নিয়ে আসামিদের জামিন নামঞ্জুর করেন।
পূর্বকোণ/ঐশী


















