চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২:৫৭ অপরাহ্ণ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় তিনি ভিকটিম হয়েছেন বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে দেখলেও, পুরো বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তারিত তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।  এ ঘটনায় জিডি বা মামলা করার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং শিগগিরই মামলা দায়ের হতে পারে বলে জানান তিনি।
 
 
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
 
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শনিবার সালমান মুক্তাদিরের একটি স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এ বিষয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা খুবই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন এবং বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে উল্লেখ করেন। তার অভিযোগ ছিল, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে ভাঙচুর করা হয়েছে।
 
 
 
তিনি আরও বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করেননি। এমনকি তিনি নিজেই বলেছেন, তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি এবং চাঁদা চাইলে তিনি দিতেন। ফলে নির্দিষ্টভাবে কার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ রয়েছে, তা এখন পর্যন্ত চিহ্নিত করা যায়নি।
 
 
এদিকে পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপিকে চাঁদাবাজ দল হিসেবে যে ঢালাও অভিযোগ করা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি। সালমান মুক্তাদির যদি চাঁদাবাজির বিষয়ে নির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা করেন, তাহলে পুলিশ সেটি তদন্ত করে দেখবে।
 
 
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনাস্থল মানিকদী নামাপাড়া, যা ক্যান্টনমেন্ট থানার অন্তর্গত। সেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। এক পক্ষ একটি বিল্ডার প্রতিষ্ঠান এবং অন্য পক্ষ একজন অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সামরিক কর্মকর্তা।
 
 
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ওই অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার পক্ষে কিছু লোক রাতের অন্ধকারে জায়গাটি দখল করতে যায়। সেখানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। ওই স্থাপনার মধ্যে সালমান মুক্তাদিরের একটি টিনশেড স্থাপনা ছিল, যেখানে সম্ভবত বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরির কাজ হতো। ওই স্থাপনাতেও বেশ কিছু ভাঙচুর হয়েছে।
 
 
মন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক তদন্ত হয়েছে। তবে বিষয়টির বিস্তারিত জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সালমান মুক্তাদিরের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। তার ফেসবুক লাইভে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে ঘটনাটি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
 
 
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা, কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
 
 
পুলিশ জানিয়েছে, বিতর্কিত জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ এবং দখল-বেদখলের ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে, তাই তদন্তের অগ্রগতি হলে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
 
পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট