তীব্র জ্বালানি সংকটের মধ্যেই দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে বড় ধরনের আঘাত এসেছে। বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে কক্সবাজারের মহেশখালী উপকূলে এলএনজি খালাস ও ভাসমান টার্মিনালে তা সরবরাহের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে বলে জানিয়েছে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার হিসাবে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে ২ হাজার ৩০১ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি)। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে সরবরাহ হয়েছে ৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার এলএনজি সরবরাহ ছিল ৯৮২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর ছিল ১ হাজার ১ মিলিয়ন ঘনফুট। অর্থাৎ তিন দিনের ব্যবধানে এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৩১৫ মিলিয়ন ঘনফুট।
প্রসঙ্গত, দেশে প্রতিদিন মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার হিসাবে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৯৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতির কারণে আগে থেকেই ভোগান্তিতে রয়েছেন গ্রাহকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক গ্রাহকরা প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নায় ভোগান্তির পাশাপাশি শিল্পকারখানায় উৎপাদন ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে এলএনজি সরবরাহ আরও কমে যাওয়ায় চলমান সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও আবাসিক গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
পেট্রোবাংলার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনিবার্য সাময়িক অসুবিধার জন্য পেট্রোবাংলা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আবহাওয়ার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
পূর্বকোণ/রানা

















