চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ: এলজিইডির তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

সেতু নির্মাণে রডের বদলে বাঁশ: এলজিইডির তিন কর্মকর্তা–কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত

অনলাইন ডেস্ক

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৪:৩২ অপরাহ্ণ

নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলে সেতু নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তিন কর্মকর্তা–কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অনিয়মের ঘটনা তদন্তেও একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

তিন কর্মকর্তা–কর্মচারীর মধ্যে দুজন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের। তাদের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী, অপরজন কার্যসহকারী। তৃতীয়জন টাঙ্গাইলের বাসাইলের কার্যসহকারী।

 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেনের সই করা পৃথক আদেশে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

 

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব ও রেলিংয়ের রডের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর এলজিইডি ব্যবস্থা নেয়।

 

এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম ও কার্যসহকারী মো. মহিন উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

একই ঘটনায় নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী যুগল কৃষ্ণ মন্ডল ও বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আবুল মনছুর আহমেদের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সাত কার্যদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এলজিইডির নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে। তাকেও সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

 

অন্যদিকে টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের স্ল্যাব তৈরিতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে ২২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এ ঘটনায় বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এলজিইডির আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত নির্মাণসামগ্রীর পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কার্যসহকারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে বাসাইলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পাশাপাশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

 

এবার একই ঘটনায় কার্যসহকারী মো. হাসমত আলীকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। আর নোয়াখালীর ঘটনায় দুই কর্মকর্তা–কর্মচারীকে বরখাস্তের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম-দুর্নীতি করে কেউ পার পাবে না। জনগণের অর্থ লুটপাট কিংবা মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। পদ-পদবি বা প্রভাব দেখিয়ে রেহাই পাওয়ার সুযোগ নেই। শোকজ, সাময়িক বরখাস্ত ও বদলির মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট