চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

২৫ বছরে ২০ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক

২৫ বছরে ২০ লাখ এসএমই উদ্যোক্তা তৈরি করেছে ব্র্যাক ব্যাংক

৩০ জুন, ২০২৬ | ৪:১৪ অপরাহ্ণ

প্রশ্ন : এখন পর্যন্ত সিএমএসএমই খাতে ব্র্যাক ব্যাংক কী কী সাফল্য অর্জন করেছে?

সৈয়দ আব্দুল মোমেন : আমাদের দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা ‘মিসিং মিডল’ বা মাঝারি স্তরের বঞ্চিত উদ্যোক্তাদের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালে যাত্রা শুরু করে ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশে এসএমই ব্যাংকিংয়ের প্রবর্তক হিসেবে কাজ করে আসছে।

দীর্ঘ ২৫ বছরের যাত্রায় ব্র্যাক ব্যাংক এখন দেশের বৃহত্তম মর্টগেজবিহীন সিএমএসএমই অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান। এ পর্যন্ত আমরা ২০ লাখের বেশি গ্রাহককে ২ লাখ কোটি টাকার বেশি সিএমএসএমই ঋণ দিয়েছি। এর মধ্যে ৮৫ শতাংশের বেশি ঋণই দেওয়া হয়েছে কোনো মর্টগেজ ছাড়াই। এর মাধ্যমে আমরা ২০ লাখ পরিবারের কোটি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি।

শুধু ঋণ প্রদান নয়, উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও আমরা কাজ করছি। ‘উদ্যোক্তা ১০১’ এবং ‘আমরাই তারা’ কর্মসূচির মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেটওয়ার্কিং ও বাজার সংযোগে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ‘সাফল্য’, ‘জীবিকা’ এবং রেমিট্যান্সভিত্তিক ঋণপণ্য ‘স্বাবলম্বী’র মতো উদ্ভাবনী ডিজিটাল ঋণসেবা চালু করা হয়েছে।

সম্প্রতি দেশের প্রথম ব্যাংক হিসেবে আমরা ‘এসএমই ইনোভেশন ল্যাব’ চালু করেছি, যা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তাদের জন্য আরও উদ্ভাবনী সেবা চালু করতে সহায়তা করবে।

প্রশ্ন : আগামী পাঁচ বছরে ব্র্যাক ব্যাংকের এসএমই ব্যবসাকে কোথায় নিয়ে যেতে চান?

সৈয়দ আব্দুল মোমেন : বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাংক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক। আর এই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এসএমই ব্যাংকিং। বর্তমানে ব্যাংকের মোট ঋণের প্রায় ৪৭ শতাংশই এসএমই খাতে বিতরণ করা হয়েছে।

২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে আমাদের এসএমই ঋণ পোর্টফোলিও দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা এবং আমানত পোর্টফোলিও ১৮ হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১৪ ও ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মোট এসএমই অর্থায়নের প্রায় ২২ শতাংশই ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে এ অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

প্রশ্ন : ব্যাংকিং খাত ডিজিটাল হলেও এসএমই খাত এখনো অনেকাংশে পিছিয়ে। এ বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

সৈয়দ আব্দুল মোমেন : এসএমই খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ব্র্যাক ব্যাংক এ খাতে ডিজিটাইজেশন নিয়ে এসেছে। বর্তমানে ডিজিটাল অনবোর্ডিংয়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক হিসাব খোলা সহজ হয়েছে। গত এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি এসএমই উদ্যোক্তার অ্যাকাউন্ট ডিজিটালি খোলা হয়েছে।

আমাদের ‘আস্থা’ অ্যাপের মাধ্যমে এসএমই গ্রাহকরা এখন সহজেই লেনদেন করছেন। বর্তমানে মোট লেনদেনের ৬৫ শতাংশের বেশি এ প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হচ্ছে। এ ছাড়া ইরুচধু প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাল্ক পেমেন্ট, ই-চালান, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও বেতন প্রদান আরও সহজ হয়েছে।

ই-ল্যাপ সিস্টেমের মাধ্যমে ডিজিটাল ঋণ প্রক্রিয়াকরণ চালু হওয়ায় ঋণ অনুমোদনের সময় কমেছে। একই সঙ্গে ‘সাফল্য’ ও ‘জীবিকা’ নামে দেশের প্রথম ডকুমেন্ট-লেস রিয়েল-টাইম ডিজিটাল এসএমই ঋণ চালু করা হয়েছে, যা অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সেবার আওতায় নিয়ে এসেছে।

প্রশ্ন : গত এক বছরে কী নতুন পণ্য চালু করেছেন? আগামী পাঁচ বছরে প্রোডাক্ট ইনোভেশনে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

সৈয়দ আব্দুল মোমেন : গত এক বছরে আমরা এসএমই ব্যাংকিংকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের ডিজিটাল লোন কর্মসূচির আওতায় ইতোমধ্যে ২৩ হাজারের বেশি ব্যাংকবহির্ভূত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাকে কাগজবিহীন ই-ঋণ ও জীবিকা ঋণ দেওয়া হয়েছে।

নৌপথ পরিবহন খাতের জন্য ‘তরঙ্গ’ নামে বিশেষ ঋণ পণ্য চালু করা হয়েছে, যা ভেসেল ফাইন্যান্সিংকে ত্বরান্বিত করছে। এ ছাড়া ‘স্বাবলম্বী’ নামে রেমিট্যান্সভিত্তিক ঋণসেবা চালু করা হয়েছে। কুটির ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল কালেকশন ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে আমরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটাভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিংয়ের মাধ্যমে এসএমই অর্থায়নে নতুন মাত্রা যোগ করতে চাই। পাশাপাশি গ্রিন ফিন্যান্সিং, নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ‘তারা’ পোর্টফোলিও এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সিংয়ে আরও উদ্ভাবনী ডিজিটাল সমাধান নিয়ে কাজ চলছে।

সাক্ষাৎকার: সৈয়দ আব্দুল মোমেন, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং, ব্র্যাক ব্যাংক

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট