চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

আঁচিল বা ওয়ার্ট

ডা. প্রীতীশ বড়ুয়া

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ | ৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

চামড়ার উপর আঁচিল বা ওয়ার্ট একপ্রকার ভাইরাস জীবাণুর কারণে হয়ে থাকে। যার নাম ‘হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস’। এটি একটি ডিএনএ ভাইরাস যা কিনা প্রায় ১০০ রকম হতে পারে। তবে চামড়ায় আঁচিল ঘটায় প্রধানত ২, ৩, ৪, ১০, ২৭, ২৯ ও ৫৭ নং শ্রেণিগুলো। সরাসরি সংষ্পর্শে ভাইরাসটি একজন থেকে অন্যজনে কিংবা খোটাখুটির ফলে নিজ দেহের একস্থান থেকে অন্যস্থানে সংক্রমিত হতে পারে। আবার সংক্রমিত হবার সাথে সাথেই যে রোগ ঘটায় তা কিন্তু নয়। এই ভাইরাসটির সুপ্তকাল এক বছর বা ততোধিক হতে পারে।

যে কোন বয়সী মানুষের আঁচিল দেখা দিতে পারে। তবে স্কুল-গামী শিশু এবং দেহের স্থানীয় বা সামগ্রিক

রোগ-প্রতিরোধে ঘাটতি আছে এমন সব মানুষ বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। আঁচিল দেখতে কি রকম হবে তা নির্ভর করে আক্রমনের স্থান, স্থায়ীত্ব ও প্রকারের উপর। সাধারণ আঁচিল শক্ত ও খসখসে বিচিযুক্ত হয়ে থাকে এবং আকারে ১ মিমি থেকে ১ সেমি কিংবা তার চেয়ে বড় হতে পারে। অনেক সময় ছোট ফুলকপির মত দেখায়। নখের পাশে ও হাতের উল্টাদিকে বেশি হতে দেখা যায়। প¬ান্টার আঁচিল পায়ের তলে বা সময় সময় হাতের তালুতে হয়ে থাকে। এগুলো চামড়ার উপরে উঁচু না হয়ে ভেতরের দিকে বাড়ে। ফলে চাপে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। সমতল আঁচিল একসাথে অনেকগুলো থাকে। দেহের সমতল অংশে যেমন¬- মুখ, হাত ও পায়ে বেশি দেখা যায়। দাঁড়ি বা লোম কামানোর সময় এটি সংক্রমিত হয় বলে ধারণা করা হয়। মিউকোসাল আঁচিল শরীরের নরম স্থান যেমন- ঠোঁটে, মুখের ভেতরে, পায়খানার রাস্তায় কিংবা জনন অঙ্গে দেখা দিতে পারে। এগুলো নরম, সাদাটে ও চ্যাপ্টা থাকে। তবে পায়খানার রাস্তার আঁচিলগুলো বড় আকারের সাধারণ শ্রেণীর মত দেখাতে পারে। জনন অঙ্গের আঁচিলগুলো সাধারণত যৌন-মিলনের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সাধারণ ও সমতল আঁচিলগুলো শরীরের মারাত্নক কোন ক্ষতি করে না। অনেক সময় এমনিতেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু জনন-তন্ত্রের আঁচিলগুলি ক্যান্সারে রূপান্তরিত হবার সম্ভাবনা থাকে। আর অল্প কিছু ক্ষেত্রে প¬্যান্টার আঁচিল দীর্ঘস্থায়ীত্বে বিকৃত হয়ে ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।

রোগটি প্রতিরোধের জন্য আক্রান্ত জায়গাটির স্পর্শ যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। দেহের সামগ্রিক ও স্থানীয় প্রতিরোধে যাতে ঘাটতি না থাকে সেদিকে নজর রাখা উচিৎ। জননতন্ত্রের আঁচিল প্রতিরোধের জন্য ভ্যাকসিন গ্রহণ করা প্রয়োজন। আঁচিলের জন্য টোটকা চিকিৎসায় না গিয়ে অনুমোদিত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভাল। কেননা আঁচিলের প্রকারভেদে চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা এবং জটিল। প্রাথমিক ভাবে স্যালিসাইলিক এসিড থেকে শুরু করে রেটিনয়েড, ক্যানথারিডিন, ইমিকুইমড, ফ্লুরোরাইসিল, বি¬ওমাইসিন ইত্যাদি স্থানীয়ভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ক্রায়োথেরাপি, ইলেক্ট্রো-কটারি, লেজার, স্থানীয় সার্জারী ইত্যাদির প্রয়োগও দেখা যায়। প্রয়োজনে মুখে খাবার রেটিনয়েড ও ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে রোগটি দীর্ঘস্থায়ী এবং চিকিৎসা বেশ কঠিন।

শেয়ার করুন