চট্টগ্রাম শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

‘ইরানি বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে’

‘ইরানি বন্দরে অবরোধ না তুললে হরমুজ প্রণালি আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৮ এপ্রিল, ২০২৬ | ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের ঘালিবাফ।

 

শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক ঘোষণায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, “লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়কালের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সামুদ্রিক সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত হরমুজ প্রণালির সমন্বিত পথ দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল পুরোপুরি উন্মুক্ত ঘোষণা করা হল।”

 

ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী সরু এ প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এ পথে বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছিল।

 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের এক যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয় আর তা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনি নিহত হওয়ার পর লেবাননের ইরান সমর্থিত সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যোগ দেয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার অ্যারিজোনায় এক জনসভায় সমর্থকদের বলেছেন যে আরাকচির ঘোষণা ‘বিশ্বের জন্য একটি মহান ও উজ্জ্বল দিন হিসেবে’ চিহ্নিত হয়েছে।

 

কিন্তু এরপর উভয়পক্ষ থেকে আসা বিবৃতি ও ব্যাখ্যাগুলোর কারণে কতো দ্রুত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শুক্রবার কিছু জাহাজকে প্রণালিটি পার হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে দেখা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

 

ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকবে।

 

এতে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার ও জ্যেষ্ঠ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবফ সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, “মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটিও খোলা থাকবে না।”

 

তিনি বলেছেন, শান্তি আলোচনার বিষয়ে শুক্রবার ট্রাম্প অনেকগুলো মিথ্যা দাবি করেছেন।

 

ইরান বলেছে, হরমুজ প্রণালি পার হতে চাওয়া সব জাহাজকে অবশ্যই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে।

 

ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েল বিবৃতি উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ‘শত্রুর বাহিনীগুলোর’ সঙ্গে সম্পর্কিত সামরিক জাহাজাগুলোকে (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) প্রণালিটি পার হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

 

জাহাজ চলাচলের তথ্য থেকে দেখা গেছে, কন্টেইনার, বাল্ক ক্যারিয়ার, ট্যাঙ্কারসহ প্রায় ২০টি জাহাজ শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে পারস্য উপসাগর হয়ে হরমুজ প্রণালির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এগুলোর অধিকাংশকেই আবার ফিরে আসতে হয়েছে; কিন্তু কেন তা পরিষ্কার হয়নি।

 

এই দলটিতে ফরাসি শিপিং গোষ্ঠী সিএমএ সিজিএম এর তিনটি কন্টেইনার জাহাজ ছিল। এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এটিই হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করা জাহাজের সবচেয়ে বড় দল।

 

এর পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পর বিরোধী ভাষ্য পাওয়া গেছে। ট্রাম্প রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে। অপরদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে বলেছেন, ইরানের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট