চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০

মোস্তাফিজ-তাসকিনের উঠে আসার গল্প

১২ মে, ২০২০ | ৩:০৭ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

মোস্তাফিজ-তাসকিনের উঠে আসার গল্প

বাংলাদেশ দলের দুই পেসার মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের পথ চলা শুরু খালেদ মাহমুদ সুজনের হাত ধরেই। রবিবার রাতে তামিম ইকবালের লাইভ আড্ডায় এ দুজনের উঠে আসার গল্প বলেছেন সুজন। কীভাবে মোস্তাফিজ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, তার বৃত্তান্ত তুলে ধরেন সুজন, ‘বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলা সব সময় দেখতাম। কোনও একটা টুর্নামেন্টের জন্য দুবাই ও শারজাহতে গিয়েছিলাম। ম্যাচে দেখলাম, ও খুব জোরে বল করে। আবার স্লোয়ার ও কাটারটাও মারছে।’ কিন্তু মোস্তাফিজের ভাগ্য তখনও বদলায়নি। চন্ডিকা হাথুরুসিংহে একজন বাঁহাতি পেসারের খোঁজ করাতেই তখন মোস্তাফিজের নাম বলেন সুজন। এতেই ভাগ্য খুলে যায় এই পেসারের, ‘ঢাকায় ফিরে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে ম্যানেজার হিসেবে যুক্ত হলাম। ওই সময়ের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে আমাকে জিজ্ঞেস করলো কোনও বাঁহাতি পেসার আছে কিনা, আমি দুজন ছেলের কথা বললাম। একজন আবু হায়দার রনি, আরেকজন মোস্তাফিজ। আমার কাছে দু’জনের বিশেষত্ব জানতে চাইল। বললাম, ‘আবু হায়দার সুইং বোলার। মুস্তাফিজ জোরে বল করে, কাটার আছে।’ ও (হাথুরুসিংহে) আমাকে আবার বলল, ‘কী রকম কাটার’, আমি বললাম, ‘খুবই কার্যকরী’। ও আমাকে বলল, ‘কালকে তাহলে ছেলেটাকে আমাকে দেখাও।’ হাথুরুসিংহের আগ্রহ দেখেই সুজন দ্রুত মোস্তাফিজকে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় আনেন। মুস্তাফিজ পরদিন নেটে বোলিং করলো। চন্ডিকা আমার কাছে এসে বলে, ‘ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলবে।’ এরপর পাকিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তার। নিজের প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলেন- মোহাম্মদ হাফিজ ও শহীদ আফ্রিদির উইকেট। অপর দিকে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ৬ ম্যাচে ১১ উইকেট পেয়েও আলোচনায় আসতে পারেননি পেসার তাসকিন আহমেদ। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে কিংবা জাতীয় লিগেও ক্যারিয়ারের শুরুতে নিজেকে চেনাতে পারেননি। সেই তাসকিনের কপাল খুলে যায় বিপিএলে নেট বোলার হিসেবে ডাক পেয়ে। বিপিএলে তাসকিন নিজের অভিষেক রাঙিয়েছিলেন ৪ উইকেট নিয়ে। প্রথম ম্যাচে পেয়েছিলেন তিলকারতেœ দিলশান, ওয়াইজ শাহ ও স্টিভেন্সের মতো উইকেট। তাসকিন প্রসঙ্গে সুজন জানান, ‘তাসকিন আমাদের চিটাগং কিংসের নেট বোলার ছিল। নেটে দেখার পর ওকে যখন আমি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি, তখন দলের সবাই বলে, আমি কি পাগল নাকি যে তাসকিনকে খেলাতে চাই। আমি সবাইকে বলেছিলাম, ‘আমাকে খেলাতে দিন। একটা ছেলে তো চার ওভারই বোলিং করবে।’ এরপর তাসকিনকে খেলাই এবং ওই ম্যাচেই চার উইকেট সে পায়।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 264 People