চট্টগ্রাম শনিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৪

সর্বশেষ:

সাঙ্গুতে ব্লক ধসে পড়ল আড়াই মাসের মাথায়

সাতকানিয়া সংবাদদাতা

১৪ জুলাই, ২০২০ | ১:৪৯ অপরাহ্ণ

সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর ভাঙ্গন রোধে সিসি ব্লক বসানোর আড়াই মাস অতিক্রম না হতেই ধসে নদী গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ব্লকগুলো। ফলে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের মাঝে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যোগসাজশে ব্লক বসানোর স্থান থেকে বালু উত্তোলন করায় নদীর গভীরতা বৃদ্ধি এবং ব্লক বসানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের কারণে এমন দশা হয়েছে। উপজেলার নলুয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া নাপিতের টেক এলাকায় সাঙ্গু নদী ভাঙ্গনরোধ প্রকল্পের কাজে এ অনিয়মে ঘটনা ঘটেছে।

অপরদিকে, ব্লক ধসে পড়ার বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এটা কোন অনিয়ম নয় বরং স্বাভাবিক বিষয় বলে দম্ভোক্তি করেন। জানা যায়, বিগত ২০১৮-১৯ আর্থিক সালে সাতকানিয়ার নলুয়া ইউনিয়নের মৈশামুড়া নাপিতের টেক এলাকায় সাঙ্গু নদীর বাম তীরে প্রায় ১৯ কোটি ব্যয়ে ১৩০০ মিটার নদী তীর সংরক্ষণ বাধ নির্মাণের কাজ শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। সে অনুযায়ী এমআরসি নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে গত ২০১৮ সালে জুলাই মাসে কার্যাদেশ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করে উপরন্তু তড়িগড়ি করে কাজ সমাপ্ত করতে গিয়ে নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি কয়েকদিনের টানা বর্ষণে সাঙ্গু নদীর স্রোত বৃদ্ধি পায় ফলে নদীর তীর সংরক্ষণ ব্লক বসানোর আড়াই মাসের মাথায় ওই ব্লকগুলো ধসে পড়ে। কাজের শুরুতেই এলাকাবাসী ব্লক বসানোর আগে ও পরে অনিয়মের যে অভিযোগ তুলেছিল সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকরা এর সত্যতা খুঁজে পায়।

স্থানীয় লোকমান হাকিম ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আরিফ খান বলেন, এ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিসি ব্লক বসানোর কাজের শুরু থেকেই অনিয়ম চলে আসছিল। যার কারণে ব্লক বসানোর কয়েক মাসের মধ্যে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদীর তীরের ভাঙ্গন পীড়িত বাসিন্দা মাস্টার জালাল উদ্দিন, মাস্টার কানুরাম চক্রবর্তী ও টিটু তালুকদার বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙ্গন প্রতিরোধ বাধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আশায় অনেক বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজের শুরুতেই অনিয়ম হতে দেখেও মুখ খুলে কিছু বলতে পারিনি। এ অনিয়মের কারণে আজ ব্লক ধসে নদীতে বিলীন হচ্ছে। তাদের দাবি- যাতে আগামীতে ব্লক বসানোর কাজ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নজরদারীতে রেখে শেষ করে।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ব্লক বসানোর কাজে নিয়োজিত এমআরসি কন্সট্রাকশনের ঠিকাদার মনির আহমদ দাম্ভিকতার সাথে বলেন, ব্লক বসালে এ রকম পানির তোড়ে ধসে পড়াটা স্বাভাবিক বিষয়। এটা আমরা পরবর্তীতে মেরামত করে দেব এবং এটাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের নিয়ম। এখানে কাজের ক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হয়নি। অন্যদিকে, ব্লক বসানোর স্থান থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে মনির আহমদ বলেন, নদী থেকে কোন বালু উত্তোলন করা হয়নি। কাজের সিডিউল অনুযায়ী বালু ব্যবহার করে ব্লক তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয় নলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিমা আকতার নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে অনিয়ম চোখে পড়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন সুরাহা পায়নি। ফলে এখন ব্লক নদীতে বিলীন হতে চলেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা সাংবাদিকদের বলেন, ব্লক ধসে যাওয়া অনিয়মের কোন বিষয় নয়। এখনো কাজটি শেষ হয়নি। জিও ব্যাগ এবং ঠেস ব্লক যা নদীতে ফেলার কথা ছিল তা এখনো ফেলা হয়নি। তাই বসানো ব্লক ধসে পড়েছে। আপাতত নদী তীরের সড়ক রক্ষার্থে ব্লকগুলো দেয়া হয়েছিল। বৃষ্টি শেষে নিয়ম অনুযায়ী সকল কাজ সম্পন্ন করা হবে। ব্লক বসানোর স্থান থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমার জানা নেই। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন দেখবেন।
সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর-এ-আলম বলেন, স্থানীয়রা আমাকে বিষয়টি মৌখিকভাবে অবগত করেছে। আমি বিষয়টি নিয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।

পূর্বকোণ/সুকান্ত-এএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট